News Ticker
221.png

এবার মোদির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে ভারতের তরুণ প্রজন্ম, উত্তাল রাজপথ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০০

শেয়ার

শেয়ার

এবার মোদির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে ভারতের তরুণ প্রজন্ম, উত্তাল রাজপথ
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন দেশটির তরুণ প্রজন্ম। ভোটার তালিকা সংশোধন, বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়া এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্কের জেরে রাজধানী নয়াদিল্লিসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ জোরদার হয়েছে। আন্দোলনে শিক্ষার্থী, তরুণ অধিকারকর্মী ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নিচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলাকালে ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামের তরুণদের আন্দোলনের কয়েকজন নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলন চলছে।

ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করেই সাম্প্রতিক আন্দোলন তীব্র হয়েছে। বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ভোটারদের একটি অংশ ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর থেকে চলা সংশোধন কার্যক্রমে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ পড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে মৃত ব্যক্তি, অন্যত্র স্থানান্তরিত ভোটার এবং যাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি, তাঁদের নামও রয়েছে।

তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার ঘটনাও যথাযথভাবে তদন্ত করতে হবে। তাঁরা ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা, বাদ পড়া নামের নিরীক্ষা এবং নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, ভারতের নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য হলো মৃত, স্থানান্তরিত ও অনুপযুক্ত ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে তালিকা হালনাগাদ করা।

আন্দোলনে তরুণদের অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় একটি তরুণ আন্দোলন হিসেবে পরিচিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ সাম্প্রতিক বিক্ষোভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভোটাধিকার ও নির্বাচনব্যবস্থার স্বচ্ছতার দাবিতে সংগঠনটি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করেন। তাঁদের সঙ্গে শিক্ষার্থী ও তরুণ আন্দোলনকারীরাও অংশ নেন। নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম পর্যালোচনার দাবিতে আদালতের কাছে আবেদন জানান বিরোধী নেতারা।

বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকার পরিবর্তন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হতে পারে এবং এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

বিক্ষোভ মোকাবিলায় নয়াদিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। জন্তর মন্তরসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। এর আগে আন্দোলনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর কিছু এলাকায় যাতায়াত ও জনসমাবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।

সাম্প্রতিক কয়েকটি বিক্ষোভে বিরোধী দলের নেতা, শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকর্মীদের আটক করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এতে আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

বিক্ষোভকারীদের একটি অংশের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং অনুমোদিত বিধিনিষেধ কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে কর্তৃপক্ষ।

তরুণদের এই আন্দোলনের পেছনে কেবল ভোটার তালিকা নিয়ে অসন্তোষ নয়, দীর্ঘদিনের আরও কিছু ক্ষোভ কাজ করছে। চাকরির সংকট, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং শিক্ষাব্যবস্থার অনিয়ম নিয়েও দেশটির তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

এর আগে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে ভারতজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ হয়েছিল। সেই আন্দোলনেও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ সক্রিয় ভূমিকা নেয়। পরবর্তী সময়ে সংগঠনটি ভোটাধিকার ও নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহির প্রশ্নেও আন্দোলন বিস্তৃত করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কর্মসংস্থান, শিক্ষাব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থার মতো বিষয়গুলো একসঙ্গে তরুণদের ক্ষোভকে বৃহত্তর আন্দোলনের রূপ দিতে পারে। তবে এই বিক্ষোভ দীর্ঘমেয়াদে ভারতের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতের রাজনীতিতে বিজেপি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক তরুণ আন্দোলন ও ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি করেছে।

বিরোধী দলগুলো এই পরিস্থিতিকে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, বিজেপি অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলনের রাজনৈতিক প্রভাব নির্ভর করবে তরুণদের অংশগ্রহণ কতটা বিস্তৃত হয়, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় কী অগ্রগতি আসে এবং সরকার কীভাবে এসব অভিযোগের জবাব দেয়, তার ওপর।

সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন ভারতের তরুণদের অধিকার, নির্বাচনব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহির বৃহত্তর বিতর্কে রূপ নিয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এই আন্দোলন কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রাখছেন দেশটির রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

ChannelNRB Footer