ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের ব্যাংকা বেলিতুং প্রদেশে ভয়াবহ দাবানলে পুড়ে গেছে প্রায় ৩০০ ঘরবাড়ি। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় শত শত মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হয়েছে। স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ব্যাংকা অঞ্চলের একটি জনবসতিপূর্ণ গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাবানলে অন্তত ৩০৫টি বাড়ি পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষ। তবে এ ঘটনায় প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। আগুনের কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে দক্ষিণ ব্যাংকা অঞ্চলের সেরদাং গ্রামের কাছের একটি পিটভূমিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। শুরুতে স্থানীয় বাসিন্দারা পানির পাম্প ব্যবহার করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে মনে হলেও মাটির নিচে পিটের স্তরে আগুন জ্বলতে থাকে।
পরে বাতাসের দিক পরিবর্তন হলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গ্রামের বসতবাড়িতে। কাঠের তক্তা দিয়ে তৈরি বাড়িগুলোতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনে প্রায় ৮ দশমিক ৩ হেক্টর এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বসতবাড়ির পাশাপাশি প্রায় ৫০টি পাখির খামার বা ভবনও পুড়ে গেছে বলে প্রাথমিক হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪৫০টি পরিবার বা ১ হাজার ৮০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁদের অনেকেই ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের জরুরি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব সংগ্রহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রয়োজন নিরূপণের কাজ চলছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনের মূল অংশ নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও পিটভূমির নিচে ধিকিধিকি আগুন জ্বলতে পারে। তাই নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
চলতি বছর ইন্দোনেশিয়ায় বন ও ভূমিতে আগুনের ঘটনা বেড়েছে। বিশেষ করে সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় দাবানল এবং ধোঁয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে। আবহাওয়াবিদ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট শুষ্ক আবহাওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী খরা আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
পিটভূমিতে আগুন লাগলে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ, উপরিভাগের আগুন নিভে গেলেও মাটির নিচে জৈব পদার্থের স্তরে আগুন দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলতে পারে। পরে বাতাসের সংস্পর্শে বা শুষ্ক আবহাওয়ায় সেই আগুন আবারও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে দাবানলের কারণে সৃষ্ট ধোঁয়া জনস্বাস্থ্যের জন্যও উদ্বেগ তৈরি করেছে। বাতাসে ক্ষতিকর সূক্ষ্ম কণার পরিমাণ বেড়ে গেলে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ সময় ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকলে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং আগে থেকে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় ভোগা মানুষের ঝুঁকি বাড়ে।
সাম্প্রতিক দাবানলের প্রভাবে প্রতিবেশী মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরেও বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইন্দোনেশিয়ার সরকার অতিরিক্ত জনবল ও সরঞ্জাম মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে।
দক্ষিণ ব্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামটিতে আগুন নিয়ন্ত্রণের পরও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।
আরও পড়ুন:







