বুলগেরিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলে ড্রোন হামলায় একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে গেছে। এ ঘটনায় জাহাজটির ১১ নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন। হামলার শিকার আরেকটি জাহাজের ১৫ নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বুলগেরীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার ভোরের মধ্যে বুলগেরিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলের কাছে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়। হামলায় একটি জাহাজ ডুবে যায়। অন্য জাহাজটিও ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ডুবে যাওয়া জাহাজটির নাম এইচএস ডিগনিটি (HS Dignity)। এটি গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ। জাহাজটি রোমানিয়ার ব্রাইলা বন্দরের দিকে যাচ্ছিল বলে জানা গেছে। বুলগেরিয়ার ক্রাপেটস উপকূলীয় এলাকার প্রায় ১৭ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটি ডুবে যায়।
বুলগেরীয় কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি থেকে পাঁচজন নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আরও ১১ জনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ নাবিকদের উদ্ধারে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছিল।
একই রাতে চেলসি থ্রি (Chelsea 3) নামের মাল্টার পতাকাবাহী আরেকটি পণ্যবাহী জাহাজে তিনটি ড্রোন আঘাত হানে। জাহাজটি বুলগেরিয়ার বিয়ালা শহরের উপকূল থেকে প্রায় ১৮ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল।
জাহাজটির ১৫ জন নাবিককেই উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সাতজন ইউক্রেনের এবং আটজন আজারবাইজানের নাগরিক। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের মধ্যে পাঁচজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁদের কারও আঘাত গুরুতর নয় বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, বুলগেরিয়ার জলসীমার কাছাকাছি বাণিজ্যিক জাহাজে এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
হামলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো পক্ষকে দায়ী করার মতো অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে বুলগেরীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী রাদেভ বলেছেন, হামলার পরিণতি রাশিয়ার জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। এ ঘটনায় ব্যাখ্যা চেয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, হামলার বিষয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই অঞ্চল আন্তর্জাতিক খাদ্যশস্য ও পণ্য পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন হামলার নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। ইউক্রেনও এ ঘটনার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে। তবে হামলার উৎস ও দায়ীদের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো চূড়ান্ত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
এর আগে গত সপ্তাহেও বুলগেরিয়ার কৃষ্ণসাগর অর্থনৈতিক অঞ্চলে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছিল। ওই ঘটনায় একটি জাহাজ ডুবে যায় এবং আরেকটি জাহাজের নাবিকদের উদ্ধার করা হয়। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে একই অঞ্চলে বারবার হামলার ঘটনায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বুলগেরিয়ার উপকূলের কাছে সর্বশেষ হামলায় নিখোঁজ ১১ নাবিকের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাঁদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে শুধু আঞ্চলিক নৌপরিবহন নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে হামলার উৎস শনাক্ত করা এবং বেসামরিক নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন:







