News Ticker
221.png

ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করতে বাড়িঘরে ভেড়া ঢুকিয়ে অত্যাচার করা হচ্ছে!

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:১৩

শেয়ার

শেয়ার

ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করতে বাড়িঘরে ভেড়া ঢুকিয়ে অত্যাচার করা হচ্ছে!
ছবি: সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব বাড়িঘর ও জমি থেকে সরিয়ে দিতে ভেড়ার পাল ব্যবহার করে হয়রানি ও চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। বাড়ির ভেতরে ভেড়া ঢুকিয়ে দেওয়া, ফসল ও গাছপালা নষ্ট করা এবং চারণভূমি দখলের মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে নিজ এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে বলে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘৬০ মিনিটস’-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। ১১ অক্টোবর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের চাপ, জমি দখল এবং হয়রানির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ফিলিস্তিনিদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে প্রবেশ করে ভেড়ার পাল ছেড়ে দিচ্ছেন। এসব ভেড়া বাড়ির আশপাশের গাছপালা ও অন্যান্য উদ্ভিদ খেয়ে ফেলছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং নিজেদের জমি ও বাড়িতে বসবাস করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

পশ্চিম তীরের আল-মুঘাইয়ির এলাকার এক ফিলিস্তিনি শিক্ষক জানান, বসতি স্থাপনকারীরা বাড়ির ফটক খুলে ভেড়া ভেতরে ঢুকিয়ে দেন। পরে এসব পশু বাড়ির আশপাশের গাছপালা খেয়ে ফেলে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল পশু চরানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জমির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব বসতভিটা থেকে সরিয়ে দেওয়ার বৃহত্তর চাপের অংশ।

সিবিএসের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিম তীরে প্রায় ২০০টি ভেড়ার খামার গড়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে এসব খামারের মাধ্যমে বিস্তীর্ণ জমির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চারণভূমির সম্প্রসারণের কারণে পশ্চিম তীরের শতাধিক ফিলিস্তিনি জনবসতি বাস্তুচ্যুত হয়েছে অথবা বিলুপ্ত হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে অনেক ফিলিস্তিনি পরিবার নিজেদের জমিতে যেতে পারছে না। কেউ কেউ নিরাপত্তাহীনতার কারণে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের জমিতে অনধিকার প্রবেশ, ফসলের ক্ষতি, শারীরিক হামলা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব ঘটনার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবিকা, কৃষিকাজ এবং পশুপালনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি পশুপালক সম্প্রদায়গুলোর ওপর হামলা, গবাদিপশু চুরি বা ক্ষতিসাধন, চারণভূমিতে প্রবেশে বাধা এবং জমি ছাড়তে চাপ দেওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে।

সংস্থাটির মতে, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে অনেক ফিলিস্তিনি পরিবার তাদের জীবিকার প্রধান উৎস হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। কিছু ঘটনায় বসতি স্থাপনকারীদের পাশাপাশি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতির বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগের কারণ। নতুন এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও জমি দখলের কৌশল হিসেবে পশুপালন ও চারণভূমির ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, নিজেদের বাড়িঘর ও জমিতে নিরাপদে বসবাসের অধিকার ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। অন্যদিকে, বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ড এবং এসব ঘটনায় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে আরও তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি জোরালো হচ্ছে।

পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমের পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট ঘটনা, দায়ী ব্যক্তিদের পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করে প্রতিটি অভিযোগ মূল্যায়ন করা জরুরি।

ChannelNRB Footer