সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আকাশে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ভূপাতিত করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ আবাসিক এলাকায় পড়ে চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএর বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুই নারী, একজন পুরুষ ও একটি শিশু রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলোতে সীমিত মাত্রার বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে রিয়াদের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হুথিদের ছোড়া দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে। এরপর ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকার ওপর পড়ে।
এ ঘটনায় চারজন আহত হওয়ার পাশাপাশি ১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট জরুরি সেবা সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদের বাসিন্দারা আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার তৎপরতা এবং বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। শহরের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা সতর্কতাও জারি করা হয়।
রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুথিদের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মধ্যে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ও বিমানবন্দরও রয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর সেখানে সীমিত পরিসরে আগুন লাগে। তবে ওই ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি বলে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন এলাকার দিকে ছোড়া আরও কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইয়েমেনে হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে বিমান অভিযান চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
জোটের মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের সানা ও পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এসব স্থাপনা হুথিদের সামরিক কার্যক্রমে জ্বালানি সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে দাবি করেছে জোট।
অন্যদিকে, হুথি-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম এসব হামলাকে ইয়েমেনের ওপর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছে। হামলায় ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের পূর্ণাঙ্গ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। <
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে রাজধানী রিয়াদ, বিমানবন্দর এবং জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আবাসিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা দেখিয়েছে, আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হলেও তার ধ্বংসাবশেষ থেকে সাধারণ মানুষের আহত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও সক্রিয় রাখা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার এবং বেসামরিক নাগরিকদের সতর্ক থাকার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ। দেশটির জ্বালানি স্থাপনা ও রপ্তানি অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
তবে রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ঘটনা এবং আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে আগুন লাগার কারণে সৌদি আরবের মোট তেল উৎপাদন বা রপ্তানি কতটা প্রভাবিত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য নেই।
আরও পড়ুন:







