ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। হামলায় রাজধানী কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে আবাসিক ভবন ও জ্বালানি অবকাঠামোরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত চালানো এসব হামলায় কিয়েভ, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রুশ বাহিনীর হামলায় একাধিক আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির জরুরি সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর দেশনিয়ানস্কি জেলায় একটি বহুতল ভবনে হামলায় দুজন নিহত হন। গোলসিভস্কি জেলাতেও হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, রাজধানী ও আশপাশের অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দেয়। তিনি বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানান।
দেশটির বৃহত্তম বেসরকারি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিটিইকে জানায়, হামলার কারণে কিয়েভের কয়েকটি এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে।
ইউক্রেনের সামরিক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রুশ হামলায় দুজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে আরও একজন নিহত হয়েছেন।
এদিকে খারকিভ ও ঝিতোমির অঞ্চলেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি সুমি ও চেরনিহিভ অঞ্চলেও হামলা চালানো হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ওই রাতের হামলায় রাশিয়া ৩৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২৮টি ড্রোন ব্যবহার করে। ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী চারটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১১৫টি ড্রোন ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করার দাবি করেছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের যোগাযোগ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলার সব ক্ষয়ক্ষতির স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
হামলার ফলে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। শীতের আগমনের আগে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, পানি সরবরাহ এবং ঘরবাড়ি গরম রাখার ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রুশ হামলার আগে পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় আগাম সতর্কবার্তা পায়নি তাঁর দেশ। তাঁর দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কিয়েভের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর সেগুলো শনাক্ত করা হয়, ফলে প্রতিরক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় কমে যায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের উদ্যোগের কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন করে এ হামলা চালানো হলো। জেলেনস্কি রাশিয়ার এই হামলাকে প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে যুদ্ধবিরতির শর্ত ও বাস্তবায়ন নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এবং সমঝোতার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ স্পষ্ট নয়। ফলে নতুন হামলার পর সংঘাত প্রশমনের উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক হামলাগুলো দেশটির বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের প্রক্রিয়া চলছে।
আরও পড়ুন:







