যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় এক শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে রাজ্যটির ডেলোনা এলাকায় একটি ছোট উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হলে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, উড়োজাহাজটিতে পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্ক ও এক শিশু ছিলেন। দুর্ঘটনায় তাঁদের সবাই ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
সাউক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পায় জরুরি সেবা বিভাগ। পরে উদ্ধারকর্মীরা ডেলোনা এলাকার একটি বনাঞ্চলে উড়োজাহাজটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পান।
উড়োজাহাজটি কেনোশা শহর থেকে মেনোমোনি যাওয়ার পথে ছিল। উইসকনসিন ডেলস পর্যটন এলাকার কাছে মিরর লেক স্টেট পার্কের নিকটবর্তী একটি বনাঞ্চলে এটি বিধ্বস্ত হয়।
দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজের ছয় আরোহীর সবাই নিহত হলেও ভূমিতে থাকা অন্য কেউ হতাহত হননি। আশপাশের কোনো স্থাপনারও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের (এনটিএসবি) প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পাইপার পিএ-৪৬ মডেলের এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট উড়োজাহাজটি প্রায় ২৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল। এ সময় পাইলট উড়োজাহাজের ডানায় বরফ জমার কথা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানান এবং নিচে নামার অনুমতি চান।
অনুমতি পাওয়ার পর উড়োজাহাজটি নিচে নামতে শুরু করে। একপর্যায়ে এটি ডান দিকে ঘুরে দ্রুত নিচের দিকে নামতে থাকে। এরপর উড়োজাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ ও রাডারভিত্তিক তথ্য পাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, ডানায় বরফ জমলে উড়োজাহাজের উড্ডয়নক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। তবে এ দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করা হয়নি।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) তদন্ত করছে। তদন্তে উড়োজাহাজের গতিপথ, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে পাইলটের কথোপকথন, আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং উড়োজাহাজটির রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করা হবে।
দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছিল এবং বজ্রঝড়ের পরিস্থিতি ছিল বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া দুর্ঘটনায় ভূমিকা রেখেছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:







