সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চলতি অক্টোবর মাসে ২০ বার হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে। এসব হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ৩৩৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জোটের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানান।
সৌদি সংবাদমাধ্যম আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা বাড়িয়েছে হুতিরা।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, অক্টোবরের শুরু থেকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ২০টি হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় ১৭ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি ৩৩৩ জন আহত হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চালানো হামলায় মোট ১৯ জন নিহত ও ৩৬৪ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আভা বিমানবন্দরও রয়েছে।
আল-মালিকির ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা বেসামরিক যাত্রীদের জীবনকে গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, হুতিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলার ফলে দেশটির বেসামরিক অবকাঠামো ও বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
রিয়াদের বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলার কারণে সৌদি আরবের আকাশপথে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এর আগে বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার পর কর্তৃপক্ষ কার্যক্রম স্থগিত রাখে এবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করে।
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর ও অন্যান্য স্থাপনায় হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল, বেসামরিক যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ দীর্ঘদিন ধরে দেশটির রাজনৈতিক ও মানবিক পরিস্থিতিকে বিপর্যস্ত করে রেখেছে। ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করার পর সংঘাত তীব্র হয়। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে সামরিক অভিযান শুরু করে।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা এবং পাল্টা সামরিক অভিযান সংঘাতকে নতুন করে তীব্র করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আঞ্চলিক কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
আরও পড়ুন:







