News Ticker
221.png

হরমুজে জাহাজডুবি: সমুদ্রে ভাসছে আইফোন ও দামি পারফিউমের বোতল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:৩৭

শেয়ার

শেয়ার

হরমুজে জাহাজডুবি: সমুদ্রে ভাসছে আইফোন ও দামি পারফিউমের বোতল
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির কাছে পণ্যবাহী একটি কনটেইনার জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর সমুদ্রের পানিতে ভাসতে দেখা গেছে আইফোনের বাক্স, দামি পারফিউম ও অন্যান্য পণ্য। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওতে ছোট ছোট নৌকায় থাকা কয়েকজনকে পানিতে ভাসমান পণ্য সংগ্রহ করতেও দেখা যায়।

ডুবে যাওয়া জাহাজটির নাম ‘জিএফএস প্রাইড’ (GFS Pride)। জাহাজটি সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মালিকানাধীন বা পরিচালনাসংশ্লিষ্ট বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জাহাজটিতে আগুন লাগার পর এটি ডুবে যায়। তবে ঠিক কী কারণে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর জাহাজটি ডুবে যাওয়ার ঘটনায় এর ২১ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলোতে কোনো নাবিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর দাবি, জাহাজটি সমুদ্রের একটি মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আগুন ধরে যায়। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়লে জাহাজটি ডুবে যায়। জাহাজটিতে আড়াই হাজারের বেশি কনটেইনার ছিল বলেও দাবি করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, জাহাজটি অজ্ঞাত কোনো প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আগুন ধরে ডুবে যায়। ফলে জাহাজডুবির সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো পরস্পরবিরোধী তথ্য রয়েছে।

জাহাজটিতে ঠিক কী পরিমাণ আইফোন, পারফিউম ও অন্যান্য মূল্যবান পণ্য ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

জাহাজডুবির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সমুদ্রের পানিতে বিভিন্ন বাক্স ও প্যাকেট ভাসতে দেখা যায়। এসব পণ্যের মধ্যে আইফোনের বাক্স ও দামি সুগন্ধির প্যাকেট রয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভিডিওতে ছোট নৌকায় থাকা লোকজনকে পানিতে ভাসমান পণ্যের কাছে যেতে এবং সেগুলো সংগ্রহ করতে দেখা যায়। তবে ভিডিওতে দেখা সব পণ্যের পরিচয়, প্রকৃত মূল্য এবং সেগুলোর মালিকানা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জাহাজের বিপুল পরিমাণ পণ্য সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা এবং মূল্যবান বাণিজ্যিক মালামালের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বা জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালির আশপাশে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও জাহাজডুবির ঘটনা সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ের মধ্যে ওই অঞ্চলে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক রাখা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জাহাজডুবির পর সমুদ্রে ভাসমান পণ্য সংগ্রহের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। তবে উদ্ধার করা পণ্যের পরিমাণ, সেগুলোর আর্থিক মূল্য এবং কতটা পণ্য স্থায়ীভাবে হারিয়ে গেছে—এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো প্রকাশিত হয়নি।

একই সঙ্গে জাহাজটি কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের পার্থক্যও ঘটনার তদন্তকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

ChannelNRB Footer