News Ticker
221.png

ইয়েমেনে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে ৫ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, অল্পের জন্য রক্ষা প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৫৭

আপডেট: ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০১

শেয়ার

শেয়ার

ইয়েমেনে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে ৫ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, অল্পের জন্য রক্ষা প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে দেশটির প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আল-মাশিক প্রাসাদ কমপ্লেক্সে চালানো এ হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে হামলার সময় প্রাসাদে অবস্থান করলেও প্রাণে বেঁচে গেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-এরিয়ানি জানান, হুথি বিদ্রোহীরা প্রাসাদ কমপ্লেক্স লক্ষ্য করে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। হামলার পর প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের অন্য সদস্যরা নিরাপদে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়। 

হামলার পর আল-মাশিক প্রাসাদ এলাকায় বিস্ফোরণ ও ধোঁয়া দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের হতাহতের খবর পাওয়া গেলেও পরে ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, নিহত ও আহতদের মধ্যে নিরাপত্তাকর্মীদের পাশাপাশি বেসামরিক কর্মচারীরাও রয়েছেন।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শায়া মোহসেন আল-জিন্দানি হামলার সময় প্রাসাদ কমপ্লেক্সে ছিলেন বলে সরকারি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম। তবে তিনি অক্ষত রয়েছেন। মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদেরও নিরাপদ থাকার কথা জানিয়েছে সরকার।

হামলার পর দেশটির তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-এরিয়ানি সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে প্রাসাদ কমপ্লেক্সের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

হুথি-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের দাবি, আল-মাশিক প্রাসাদ কমপ্লেক্সের ভেতরে সৌদি কর্মকর্তাদের নেতৃত্বাধীন একটি সামরিক অভিযান পরিচালনা কেন্দ্র এবং অস্ত্রের গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এ হামলাকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় আঘাত হিসেবে দেখছে। হুথিদের দেওয়া লক্ষ্যবস্তুর বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘদিন ধরে হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার সৌদি আরবের সমর্থন পেয়ে আসছে। ২০১৪ সালে হুথিরা সানা দখল করার পর থেকে দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সূচনা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে হুথি ও সরকারপন্থী বাহিনীর মধ্যে লড়াই তীব্র হওয়ায় পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। এডেনের আল-মাশিক প্রাসাদে হামলাটি চলমান সংঘাতের নতুন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার অভিযোগ করেছে। তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের মধ্যে ইয়েমেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কোন দিকে এগোবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের যুদ্ধের কারণে দেশটিতে বাস্তুচ্যুতি, খাদ্যসংকট ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি আগে থেকেই গুরুতর সমস্যা হিসেবে রয়েছে।

ChannelNRB Footer