শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, শিক্ষকের সংকট নিরসন এবং শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ উন্নয়নের দাবিতে টানা বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স। দেশটির রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। গত কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভে প্যারিস মহানগর এলাকায় ১ হাজার ২৬০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ৮৬ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএমটিভির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।
শিক্ষকদের ঘাটতি, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং দীর্ঘ স্কুল সময়সূচির প্রতিবাদে গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা প্যারিসের আশপাশের এলাকা ছাড়িয়ে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন ও শ্রেণিকক্ষের পরিবেশও সন্তোষজনক নয়। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে তাদের।
বৃহস্পতিবারও দেশটির প্রায় ২০০টি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত ছিল বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে।
প্যারিস পুলিশ প্রিফেকচারের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে প্যারিস মহানগর এলাকায় ১ হাজার ২৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের ৮৬ শতাংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক।
এ ছাড়া বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে ২৮৬ জন পুলিশ ও জেন্ডারমারি সদস্য এবং ১৩ জন শিক্ষা কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন। ১৩ অক্টোবরের বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর ৭১ সদস্য আহত হন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কিছু বিক্ষোভকারী রাস্তার পাথর তুলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করেছেন। কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুলিশের অভিযান ও বলপ্রয়োগ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাঁ-দেনির পল এলুয়ার উচ্চবিদ্যালয়ের কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ তাঁদের ওপর বলপ্রয়োগ করেছে।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেছেন, কিছু এলাকায় বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। তাঁর ভাষায়, পরিস্থিতি এখন আর কেবল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; কিছু ক্ষেত্রে তা নগর সহিংসতার রূপ নিয়েছে।
তবে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে সরকার আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানিয়েছেন, উচ্চশিক্ষায় ভর্তির জন্য ব্যবহৃত ‘পারকুরসুপ’ (Parcoursup) ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অক্টোবরের শেষ নাগাদ এ বিষয়ে নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করা হতে পারে।
সরকারের প্রতিশ্রুত ৩ হাজার বিকল্প শিক্ষকের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশকে ইতোমধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের সংগঠনগুলো আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। শনিবার দেশজুড়ে নতুন বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে। একই সময়ে ২০১৯ সালের ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের বার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির পরিকল্পনাও রয়েছে।
ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা এবং বিক্ষোভে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ—এই তিনটি বিষয় এখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন:







