জার্মানির একটি বিমানবন্দরে যাত্রীর স্যুটকেস তল্লাশি করতে গিয়ে ৯২টি সরীসৃপ উদ্ধার করেছেন শুল্ক কর্মকর্তারা। উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোর মধ্যে রয়েছে ৩৭টি বিষধর সাপ এবং ৫৫টি টিকটিকি-জাতীয় সরীসৃপ। মেক্সিকো থেকে আসা ৪৫ বছর বয়সী এক যাত্রীর লাগেজে প্রাণীগুলো লুকানো অবস্থায় পাওয়া যায়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জার্মানির কোলন-বন বিমানবন্দরের শুল্ক কর্তৃপক্ষ এ তথ্য প্রকাশ করে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ডব্লিউডিআর ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাণীগুলোর প্রায় ৩০টি দীর্ঘ যাত্রাপথে বা উদ্ধারের পর মারা গেছে।
শুল্ক কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি মেক্সিকো সিটি থেকে ইস্তাম্বুল হয়ে জার্মানিতে পৌঁছান। বিমানবন্দরে ‘গ্রিন চ্যানেল’ দিয়ে বের হওয়ার সময় তাঁর অস্বাভাবিক নার্ভাস আচরণ কর্মকর্তাদের সন্দেহের কারণ হয়।
প্রথমে মাদক বহনের সন্দেহে তাঁর পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় কোকেন ব্যবহারের ইতিবাচক ফল পাওয়ার পর তাঁর স্যুটকেস তল্লাশি করা হয়। তবে লাগেজে মাদক পাওয়া যায়নি। পরিবর্তে উদ্ধার করা হয় বিপুলসংখ্যক জীবন্ত সাপ ও অন্যান্য সরীসৃপ।
কর্মকর্তারা জানান, সাপগুলোকে ছোট প্লাস্টিকের বোতল ও পাত্রে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছিল। অন্যদিকে, টিকটিকি-জাতীয় প্রাণীগুলোকে শ্যাম্পু ও প্রসাধনীর বোতল, প্লাস্টিকের কৌটা এবং মোজার মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোর মধ্যে ভাইপার ও র্যাটলস্নেকের মতো বিষধর সাপ রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির টিকটিকি ও ইগুয়ানাও পাওয়া গেছে।
কোলন শুল্ক দপ্তরের মুখপাত্র ইয়েন্স আহলান্ড বলেন, বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ থেকে নানা ধরনের জিনিস উদ্ধার করা হলেও মেক্সিকো থেকে আসা এক যাত্রীর স্যুটকেসে ৩৭টি বিষধর সাপ ও ৫৫টি টিকটিকি পাওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন।
দীর্ঘ সময় ধরে খাবার ও পানি ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আটকে রাখার কারণে প্রাণীগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০টি সরীসৃপ যাত্রাপথে অথবা উদ্ধারের পর মারা যায়।
জার্মানির পশুচিকিৎসকেরা জীবিত প্রাণীগুলোকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে সেগুলোকে দেশটির ব্রাউনশভাইগ এলাকার কাছে একটি বিশেষায়িত সরীসৃপ পরিচর্যা কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
প্রাণীগুলোকে এভাবে পরিবহন করা পশুকল্যাণসংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘন করেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জিজ্ঞাসাবাদে ওই যাত্রী দাবি করেন, তিনি ছুটিতে জার্মানিতে যাচ্ছিলেন এবং ব্রাজিলের এক পরিচিত ব্যক্তির অনুরোধে সরীসৃপগুলো নিয়ে আসছিলেন।
তবে তাঁর পরিচয় প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। জার্মানিতে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে তাঁকে আবার ইস্তাম্বুলে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী পরিবহনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তও শুরু হয়েছে।
বন্যপ্রাণী পাচার আন্তর্জাতিকভাবে একটি গুরুতর সমস্যা। বিরল ও বিষধর প্রাণী অবৈধভাবে সংগ্রহ করে ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা কিংবা পোষা প্রাণীর বাজারে বিক্রির চেষ্টা করা হয়। এ ধরনের পাচারে প্রাণীদের মৃত্যু ছাড়াও জননিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
জার্মানির কোলন-বন বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক এই উদ্ধার অভিযান আবারও বন্যপ্রাণী পাচার প্রতিরোধে সীমান্তে তল্লাশি ও নজরদারির গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
আরও পড়ুন:







