মালয়েশিয়ায় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০ মাসে ১ লাখ ৫৯ হাজার ২৩২ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত দেশজুড়ে পরিচালিত অভিযানে তাঁদের আটক করা হয়। এ সময়ে ৬ লাখ ৫৯ হাজারের বেশি ব্যক্তির কাগজপত্র যাচাই করেছে কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সংসদে লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানিয়েছে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট ৫৩ হাজার ৩১৮টি অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এসব অভিযানে ৬ লাখ ৫৯ হাজার ১৯১ জনকে যাচাই-বাছাই করা হয়। এর মধ্যে ১ লাখ ৫৯ হাজার ২৩২ জনকে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈধ অভিবাসন নথি না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা এবং অনুমতিপত্রের শর্ত ভঙ্গের মতো অভিযোগ রয়েছে।
শুধু বিদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধেই নয়, তাঁদের অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া কিংবা আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সময়ে ৬ হাজার ৯৯ জন নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বৈধ অনুমতি ছাড়া বিদেশি নাগরিকদের কাজে নিয়োগ দেওয়া এবং তাঁদের অবস্থানে সহায়তা করার অভিযোগে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে শুধু বিদেশি নাগরিকদের আটক করাই যথেষ্ট নয়; যাঁরা অবৈধভাবে তাঁদের নিয়োগ দেন বা আশ্রয় দেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী নির্মাণ, উৎপাদন, সেবা ও বিভিন্ন শ্রমনির্ভর খাতে কাজ করেন। ফলে দেশটিতে অভিবাসন আইন প্রয়োগের কঠোরতা প্রবাসী কর্মীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে যাঁদের ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়েছে, যাঁরা অনুমোদিত নিয়োগকর্তার বাইরে কাজ করছেন কিংবা যাঁদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে সমস্যা রয়েছে, তাঁদের নিজেদের অভিবাসন-সংক্রান্ত নথি যাচাই করা জরুরি।
তবে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে আটক ব্যক্তিদের জাতীয়তাভিত্তিক বিভাজন দেওয়া হয়নি। ফলে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
মালয়েশিয়া সরকার দেশজুড়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং অনিয়মিত বিদেশি কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন:







