News Ticker
221.png

ইয়েমেনে আট ঘণ্টার তীব্র লড়াই, ১৬ হুতি যোদ্ধা নিহতের দাবি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৪৪

শেয়ার

শেয়ার

ইয়েমেনে আট ঘণ্টার তীব্র লড়াই, ১৬ হুতি যোদ্ধা নিহতের দাবি
ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের তায়েজ শহরের দক্ষিণে আট ঘণ্টার তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ১৬ জন হুতি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির সরকারি বাহিনী। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) আল-শাকাব ফ্রন্টে হুতিদের হামলা প্রতিহত করার সময় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর ২২তম মেকানাইজড ব্রিগেড এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সংঘর্ষে সরকারি বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিরোধ যোদ্ধারাও অংশ নেন।

সেনাবাহিনীর দাবি, হুতি যোদ্ধারা তায়েজের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত আল-শাকাব ফ্রন্টের পূর্ব ও পশ্চিম অংশে বড় ধরনের হামলা চালায়। হামলা প্রতিহত করতে সরকারি বাহিনী ও স্থানীয় প্রতিরোধ যোদ্ধারা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। প্রায় আট ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলে।

সরকারি বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ লড়াইয়ে ১৬ জন হুতি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পরও হুতিরা ওই এলাকায় নতুন কোনো ভূখণ্ড দখল করতে পারেনি বলে দাবি করেছে সেনাবাহিনী।

তবে হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। এ বিষয়ে হুতি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইয়েমেনের তায়েজ প্রদেশ দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। অঞ্চলটির ভৌগোলিক অবস্থান এবং যোগাযোগব্যবস্থার কারণে সামরিক দিক থেকে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

তায়েজের বিভিন্ন ফ্রন্টে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে অতীতেও দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। নতুন করে আল-শাকাব ফ্রন্টে লড়াই শুরু হওয়ায় ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা ইয়েমেনের সংঘাতরত পক্ষগুলোর জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ফলে কোনো পক্ষের নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার মতো স্বাধীন তথ্য পাওয়া যায়নি।

২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখলে নেওয়ার পর ইয়েমেনে সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে সামরিক অভিযান শুরু করে।

দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে দেশটির অবকাঠামো, অর্থনীতি ও জনজীবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে রয়েছেন।

বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। নতুন করে সংঘর্ষ বাড়লে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ChannelNRB Footer