পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে নিখোঁজ ব্যক্তির সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) গাম্বিয়া রেড ক্রস সোসাইটি এ তথ্য জানিয়েছে।
রেড ক্রসের তথ্য অনুযায়ী, গাম্বিয়ার নর্থ ব্যাংক অঞ্চলের জিনাক কাজাতা এলাকার উপকূলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নৌকাটিতে ঠিক কতজন যাত্রী ছিলেন এবং দুর্ঘটনার সময় কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
গাম্বিয়া রেড ক্রস সোসাইটি জানিয়েছে, উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধার কার্যক্রমে যুক্ত অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, জিনাক কাজাতা গ্রামটি আটলান্টিক মহাসাগরের একটি দ্বীপে অবস্থিত। ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে যাত্রা করা অভিবাসীদের কাছে এলাকাটি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ যাত্রা শুরুর স্থান হয়ে উঠেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, দুর্ঘটনাকবলিত নৌকার যাত্রীরাও পশ্চিম আফ্রিকা থেকে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন। ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম পথ হিসেবে পরিচিত এই সমুদ্রপথটি দীর্ঘ ও বিপজ্জনক।
সমুদ্রে তীব্র স্রোত, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং অনেক ক্ষেত্রে জরাজীর্ণ ও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌযান ব্যবহারের কারণে এ পথে যাত্রীরা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েন। নৌযান দুর্ঘটনার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে পানিশূন্যতা ও প্রাণহানির আশঙ্কাও থাকে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, মরক্কো, মৌরিতানিয়া ও সেনেগালের উপকূলে নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণ জোরদার হওয়ায় ইউরোপে যেতে ইচ্ছুক কিছু অভিবাসী আরও দক্ষিণের দেশ, বিশেষ করে গাম্বিয়া থেকে যাত্রা শুরু করছেন।
এর ফলে সমুদ্রপথের দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে। আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণের এসব স্থান থেকে যাত্রা শুরু করলে সমুদ্রপথে অতিরিক্ত ৭৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে হতে পারে। কিছু যাত্রার মোট দূরত্ব প্রায় ২ হাজার ২০০ কিলোমিটারে পৌঁছাতে পারে। এতে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকতে হয় এবং দুর্ঘটনা, পানিশূন্যতা ও নিখোঁজ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
গাম্বিয়ার জিনাক কাজাতা উপকূলে এর আগেও অভিবাসীবাহী নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে একই এলাকার কাছে একটি নৌকা ডুবে ৪০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং প্রায় ১০০ জন নিখোঁজ হয়েছিলেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
এদিকে, ইউরোপে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে আটলান্টিক পাড়ি দিতে গিয়ে অভিবাসীদের প্রাণহানির ঘটনা আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। দারিদ্র্য, সংঘাত ও নিপীড়ন থেকে মুক্তি কিংবা উন্নত জীবনের আশায় অনেক মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ এই পথ বেছে নেন।
আরও পড়ুন:







