মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে নৌযানডুবির ঘটনায় ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড। এ ঘটনায় আরও ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর উদ্ধারকারী দল তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোরে নৌযানটি ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা জানিয়ে জরুরি বার্তা পাওয়ার পর উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। পরে সাগরের পানিতে ভাসতে থাকা এবং ধ্বংসাবশেষ আঁকড়ে ধরে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধার করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সান ডিয়েগোতে নিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনের শরীরে হাঙরের কামড়ের সন্দেহজনক ক্ষত পাওয়া গেছে এবং আরও দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কোস্ট গার্ডের লেফটেন্যান্ট সান্তিয়াগো তামবুরিনির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে একটি নৌযান ডুবে যাচ্ছে জানিয়ে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়। খবর পাওয়ার পর উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়।
প্রায় দুই ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে নৌযানটির কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি; শুধু কিছু ধ্বংসাবশেষ এবং পানিতে ভাসমান মানুষকে দেখা যায়।
উদ্ধারকর্মীরা প্রায় ৯০ মিনিট ধরে অভিযান চালিয়ে ১৬ জনকে পানি থেকে তুলে আনেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের কয়েকজন ধ্বংসাবশেষ আঁকড়ে ধরে ছিলেন, আর কেউ কেউ একে অপরকে ধরে পানিতে ভেসে থাকার চেষ্টা করছিলেন।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের একজনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নৌযানটিতে অন্তত ২৭ জন ছিলেন। উদ্ধার হওয়া ১৬ জনের বাইরে আরও ১১ জনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাঁদের সন্ধানে সাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
অভিযানে হেলিকপ্টার, নজরদারি বিমান, কোস্ট গার্ডের জাহাজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ অংশ নিচ্ছে। মেক্সিকোর নৌবাহিনীও এনসেনাদা এলাকা থেকে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ১৬ জনকে হেলিকপ্টারে করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগোতে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, একজনের শরীরে হাঙরের কামড়ের সন্দেহজনক ক্ষত রয়েছে। এ ছাড়া দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। কয়েকজনকে ঠান্ডাজনিত সমস্যার জন্যও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
মেক্সিকোর কনস্যুলেট উদ্ধার হওয়া নাগরিকদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। তবে নৌযানটিতে থাকা সবার পরিচয় এবং তাঁদের যাত্রার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
নৌযানটির যাত্রার সূচনা, গন্তব্য এবং এটি কী উদ্দেশ্যে সমুদ্রে ছিল, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। যে এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি মাছ ধরার নৌকা ও বিনোদনমূলক জলযানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী পাচারের জন্য ব্যবহৃত কথিত নৌপথ হিসেবেও পরিচিত।
তবে দুর্ঘটনাকবলিত নৌযানটি অভিবাসী পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল কি না, তা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি। নৌযানটির ধরন সম্পর্কেও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নৌযানটি কেন ডুবে গেল, তা এখনো জানা যায়নি। আবহাওয়া, সমুদ্রের পরিস্থিতি, নৌযানের সক্ষমতা কিংবা অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিষয়টি দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল কি না, তা নির্ধারণে আরও তথ্য প্রয়োজন।
উদ্ধার অভিযান শেষ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও নৌযানটির যাত্রাপথ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
মেক্সিকোর উপকূলে এই দুর্ঘটনা আবারও সমুদ্রপথে যাতায়াতের ঝুঁকি সামনে এনেছে। বিশেষ করে ছোট নৌযানে দীর্ঘ সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাব্যবস্থা ও যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি, তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
আরও পড়ুন:







