ভারতের রাজস্থানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী একটি বাস সড়কের পাশের গভীর নালায় পড়ে আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন নারী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৭ জন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে রাজ্যের কোটা জেলার দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়েতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি মধ্যপ্রদেশের ভোপাল থেকে রাজস্থানের খাটু শ্যাম মন্দিরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথে কোটা জেলার সিমলিয়া থানা এলাকার কাছে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়কের রেলিং ভেঙে প্রায় ১৫ ফুট গভীর নালায় পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৬টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের ৩৮৪ নম্বর পোলের কাছাকাছি দুর্ঘটনাটি ঘটে। বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যাওয়ার পর যাত্রীরা ভেতরে আটকা পড়েন। স্থানীয় লোকজন ও উদ্ধারকর্মীরা তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন।
দুর্ঘটনাস্থলে কাদা ও পানি জমে থাকায় উদ্ধারকাজে কিছুটা বেগ পেতে হয়। পরে ক্রেনের সাহায্যে ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি নালা থেকে তোলার ব্যবস্থা করা হয়।
কোটা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে নিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং অন্যদের এমবিএস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ দুর্ঘটনায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন নারী রয়েছেন। সংবাদমাধ্যমে নিহতদের অরুণা, বৈষ্ণবী, তৃষা, কৃষ্ণা, অনিতা, ওম, সূর্যবংশী ও রাজু নামে শনাক্ত করার কথা জানানো হয়েছে।
আহতদের চিকিৎসা চলছে। প্রাথমিকভাবে তাঁদের কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় বলে কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে কিছু প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চালকের ঘুমিয়ে পড়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘ পথ চালানোর সময় চালক তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় বাসটির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এরপর যানটি সড়কের পাশের রেলিং ভেঙে নিচে পড়ে যায়।
তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। চালকের শারীরিক অবস্থা, গাড়ির যান্ত্রিক সক্ষমতা এবং দুর্ঘটনার আগের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর কোটা জেলার কালেক্টর পীযূষ সামারিয়া এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। আহত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি সামাল দিতে কাজ করে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে আহতদের সরিয়ে নেওয়া এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ভারতের দ্রুতগতির এক্সপ্রেসওয়েতে এমন দুর্ঘটনা চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম, দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর ঝুঁকি এবং সড়ক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রায় চালকের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা, নির্ধারিত বিরতি নেওয়া এবং গাড়ির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করা দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রাজস্থানের এই দুর্ঘটনায় আটজনের প্রাণহানি এবং বহু মানুষের আহত হওয়ার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তদন্ত শেষ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
আরও পড়ুন:







