News Ticker
221.png

মিয়ানমারে বিমান হামলায় নিহত ১১

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৪০

শেয়ার

শেয়ার

মিয়ানমারে বিমান হামলায় নিহত ১১
ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি গ্রামে সামরিক বিমান হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন নারী ও দুটি শিশু রয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুরে মান্দালয় শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে ইয়েসাগিও এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্য ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। হামলায় কয়েকটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। নিহতদের সবাই ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

বিদ্রোহী গোষ্ঠী পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের (পিডিএফ) সদস্য বো পাও জানান, হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন নারী ও দুটি শিশু রয়েছে। নিহত শিশুদের একজনের বয়স প্রায় এক বছর। অন্যজন ১১ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্র, যে হামলার সময় সাইকেল চালাচ্ছিল।

নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বোমার আঘাতে সড়কের পাশে থাকা তিনটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। হামলার সময় বাড়িগুলোর আশপাশে থাকা মানুষ হতাহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতদের সবাই ঘটনাস্থলেই মারা যান। হামলার পর স্থানীয় লোকজন ধ্বংসস্তূপের কাছে ছুটে যান এবং হতাহতদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইয়েসাগিও এলাকার যে গ্রামে হামলা হয়েছে, সেটি পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল। মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইরত এই সশস্ত্র গোষ্ঠী দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে।

২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে সামরিক বাহিনী, গণতন্ত্রপন্থী প্রতিরোধ গোষ্ঠী এবং বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

মধ্য মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক বাহিনীর বিমান হামলা ও স্থল অভিযান সংঘাতের মাত্রা বাড়িয়েছে। এতে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে।

হামলার বিষয়ে মিয়ানমারের সামরিক কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার লক্ষ্যবস্তু, অভিযানের উদ্দেশ্য এবং বেসামরিক মানুষের হতাহতের বিষয়ে সামরিক বাহিনীর আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানা যায়নি।

হতাহতের সংখ্যা ও ঘটনার বিবরণ স্থানীয় বিদ্রোহী সদস্য এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। স্বাধীনভাবে সব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানা যায়নি।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত হয়েছে। গণতন্ত্রপন্থী পিডিএফের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা (এসিএলইডি)-এর হিসাব অনুযায়ী, গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকে মিয়ানমারে সংঘাত-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

চলমান সংঘাতে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটও দেখা দিয়েছে।

ইয়েসাগিও এলাকায় সর্বশেষ বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ ১১ জনের প্রাণহানি দেশটির চলমান সংঘাতের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ChannelNRB Footer