News Ticker
221.png

ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহেরদাদ আখলাঘি কেতাবচি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:০৬

শেয়ার

শেয়ার

ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহেরদাদ আখলাঘি কেতাবচি
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে মেহরদাদ আখলাকি কেতাবচির নিয়োগ অনুমোদন করেছে দেশটির সংসদ। রোববার অনুষ্ঠিত আস্থা ভোটে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার সমর্থন পেয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে কয়েক মাস ধরে ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্বে চলা ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে নতুন মন্ত্রী নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংসদে আখলাকির পক্ষে ২৩৭টি ভোট পড়ে এবং বিপক্ষে ভোট দেন ১৫ জন আইনপ্রণেতা। ভোটের সময় সংসদীয় কার্যক্রম ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। নতুন মন্ত্রী এখন দেশটির প্রতিরক্ষা উৎপাদন, সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত নীতিনির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন।

মেহরদাদ আখলাকি কেতাবচি ইরানের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। এর আগে তিনি দেশটির অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফলে ক্ষেপণাস্ত্র, সামরিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান চলতি মাসের শুরুতে তাঁকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেন। এরপর সংসদের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো তাঁর যোগ্যতা ও প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করে। আইনপ্রণেতাদের আলোচনা শেষে অনুষ্ঠিত আস্থা ভোটে তিনি অনুমোদন পান।

এর আগে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন আজিজ নাসিরজাদেহ। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিনে তিনি নিহত হন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ ইবন আল-রেজা ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন।

দীর্ঘ সময় পর স্থায়ী প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিয়োগের মাধ্যমে সামরিক প্রশাসনে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিল তেহরান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নতুন করে বণ্টিত হলো।

সংসদীয় অনুমোদনের পর আখলাকি সম্ভাব্য নতুন মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের ওপর আবার হামলা হলে দেশটি বিস্তৃত ও শক্তিশালী জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ এবং শক্তিশালী বোমা ব্যবহারের হুমকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে এসব বক্তব্য ইরানি কর্মকর্তার নিজস্ব দাবি; এগুলোর সামরিক সক্ষমতা বা বাস্তব কার্যকারিতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নিয়োগ এমন এক সময়ে হলো, যখন ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক সংঘাত, সামরিক হুমকি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে রয়েছে।

আখলাকির প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে অভিজ্ঞতা ইরানের সামরিক উৎপাদন, ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা নির্ভর করবে সরকারের নীতি, সামরিক বাহিনীর অগ্রাধিকার এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর।

নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে দেশের সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখা, প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা ধরে রাখা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করা। তাঁর নিয়োগ ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণ করলেও দেশটির সঙ্গে পশ্চিমা শক্তিগুলোর উত্তেজনা কমবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

ChannelNRB Footer