News Ticker
221.png

কানাডার সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৪৬

শেয়ার

শেয়ার

কানাডার সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন
ছবি: সংগৃহীত

কানাডার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রশিক্ষণ ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। দেশটির আলবার্টা প্রদেশে অবস্থিত কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েইনরাইটে (CFB Wainwright) এ ঘটনা ঘটে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

কানাডার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিন্টি হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহত ও আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেননি তিনি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনো সংবেদনশীল এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর স্থানীয় সময় বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ঘাঁটির একটি প্রশিক্ষণ এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘাঁটির সীমানা অতিক্রম করে আশপাশের গ্রামীণ এলাকায় পৌঁছে যায়। সামরিক ও বেসামরিক জরুরি সেবাকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কাজ করেন।

কানাডার জাতীয় প্রতিরক্ষা বিভাগ ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, এ ঘটনায় প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হতাহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত প্রকাশ করা হচ্ছে না।

অগ্নিকাণ্ডের পর আহতদের চিকিৎসার জন্য আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। কানাডার সম্প্রচারমাধ্যম সিবিসি নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে এডমন্টনের রয়্যাল আলেকজান্দ্রা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ওয়ারেন থিরস্ক জানান, বিপুলসংখ্যক রোগী আসায় হাসপাতালগুলো প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়ে।

আলবার্টা প্রদেশের রাজধানী এডমন্টন ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আহতদের চিকিৎসায় ওই শহরের হাসপাতালগুলোতেও প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

তবে আহতদের মধ্যে কতজন সামরিক সদস্য, কতজন বেসামরিক ব্যক্তি এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থা কী—এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আগুন ঘাঁটির সীমানা ছাড়িয়ে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই সময় আলবার্টার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবল বাতাস বয়ে যাচ্ছিল। বাতাসের ঝাপটার গতি ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছিল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে দমকলকর্মীদের আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে হয় এবং আশপাশের বাড়িঘর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়।

স্থানীয় প্রশাসনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ পরিস্থিতিতে আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য কোনো বাধ্যতামূলক উচ্ছেদ নির্দেশ জারি করা হয়নি। তবে জরুরি পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাব্যবস্থা হালনাগাদ করা হতে পারে।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কানাডার সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) ঘটনার তদন্তে যুক্ত হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো, এর সঙ্গে কোনো দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো ঘটনা জড়িত কি না এবং কী পরিস্থিতিতে প্রাণহানি ঘটেছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কানাডার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিন্টি ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর ও সংবেদনশীল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আগুনের কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েইনরাইট দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র। আলবার্টা প্রদেশে অবস্থিত এ ঘাঁটিতে সেনাসদস্যদের যুদ্ধের প্রস্তুতি, কৌশলগত অনুশীলন এবং বিভিন্ন ধরনের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

এখানে কানাডিয়ান ম্যানুভার ট্রেনিং সেন্টার এবং থার্ড কানাডিয়ান ডিভিশন ট্রেনিং সেন্টার অবস্থিত। ফলে ঘাঁটিটি কানাডার সামরিক প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সামরিক সদস্যদের নিরাপত্তা, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে ঘাঁটির কতটা ক্ষতি হয়েছে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম কখন পুরোপুরি চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ChannelNRB Footer