ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা ৭৫ জনের মরদেহ ও দেহাবশেষের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে গাজা সিটির আল-দারাজ এলাকায় তাঁদের জানাজায় অংশ নেন শত শত ফিলিস্তিনি। পরে মরদেহ ও দেহাবশেষগুলো শহরের শেখ রাদওয়ান কবরস্থানে দাফন করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজা সিটির আল-দারাজ এলাকার ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া একাধিক বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এসব মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া গাজার সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে এসব দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।
নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। তাঁদের অনেকেই ২০২৩ সালের যুদ্ধের শুরুর দিকে নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে হামলার শিকার হয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উদ্ধার করা দেহাবশেষ ফিলিস্তিনি পতাকায় মোড়ানো হয়। স্বজনদের শেষবারের মতো বিদায় জানানোর সুযোগ দিতে শনিবার সন্ধ্যায় সেগুলো রাখা হয়েছিল। পরে রোববার সকালে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।
দীর্ঘ সময় পর স্বজনদের দেহাবশেষ ফিরে পাওয়া শোকাহত পরিবারগুলোর জন্য নতুন করে বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা স্বজনদের সন্ধানে অনেক পরিবারকে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে।
যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞে গাজার বহু আবাসিক ভবন মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ফলে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে পাওয়া এবং তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা এখনো বহু পরিবারের জন্য কঠিন বাস্তবতা।
ফিলিস্তিনি চিকিৎসা সূত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গাজা উপত্যকাজুড়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের নিচে এখনো প্রায় আট হাজার মানুষের মরদেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে। তবে এটি একটি আনুমানিক হিসাব; নিখোঁজ ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত তালিকা নয়।
উদ্ধারকাজের অন্যতম বড় বাধা হলো ভারী যন্ত্রপাতি, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি। অনেক ক্ষেত্রে উদ্ধারকর্মীদের সীমিত সামর্থ্য নিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরাতে হচ্ছে। এতে উদ্ধারকাজ দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে অপেক্ষা করতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধ গাজার আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, যোগাযোগব্যবস্থা ও অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করেছে। বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন, আর অসংখ্য পরিবার হারিয়েছে তাদের স্বজন ও বসতবাড়ি।
ধ্বংসস্তূপ থেকে একে একে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা গাজার মানবিক সংকটের গভীরতা আবারও সামনে এনেছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম সরবরাহ এবং স্বজনদের মর্যাদার সঙ্গে দাফনের সুযোগ নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
আরও পড়ুন:







