রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে একযোগে এক হাজারেরও বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) চালানো এই হামলায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো, তেল রপ্তানি টার্মিনাল ও বিভিন্ন শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বিভিন্ন অঞ্চলে ১ হাজার ১৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শহর সেন্ট পিটার্সবার্গে হামলায় পিটার্সবার্গ অয়েল টার্মিনাল ও রুচি তেল ডিপোতে আগুন লাগে। হামলার পর সেখানে জরুরি বিভাগের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।
স্থানীয় গভর্নর আলেকজান্ডার বেগলভের বরাতে জানা গেছে, এ ঘটনায় অন্তত একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। হামলায় আবাসিক ভবন ও বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া রাশিয়ার অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওজোনের একটি লজিস্টিকস কেন্দ্র এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ভিকে পরিচালিত একটি ডেটা সেন্টারও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বরাতে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির ১৫টি অঞ্চল, অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপ এবং কৃষ্ণসাগর এলাকায় ইউক্রেনের ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। তবে কতটি ড্রোন নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, সে বিষয়ে সব অঞ্চলের পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত তথ্য পাওয়া যায়নি।
হামলার ব্যাপ্তি এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে দুই পক্ষের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। একই দিনে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া শহরে রাশিয়ার হামলায় হতাহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
এদিকে, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যেও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি ও সামরিক সরবরাহব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব বাড়াতে পারে।
আরও পড়ুন:







