ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে সরকারি বাহিনীর একটি সামরিক প্রশিক্ষণ শিবিরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। সোমবার (১৯ অক্টোবর) আল-আলাম সামরিক শিবিরে চালানো এ হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত ও আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে নিহত ও আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাবওয়া প্রদেশের জারদান জেলায় অবস্থিত আল-আলাম সামরিক শিবির লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশের নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছিল।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য, হামলার সময় শিবিরে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছিল। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণকেন্দ্রটিকে লক্ষ্য করেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয়েছে। তিনি এ হামলার জন্য হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছেন।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের কর্মকর্তারা হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি এ ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
সরকারি পক্ষের অভিযোগ, হুতিরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। তবে হামলার বিষয়ে হুতি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করার পর থেকে ইয়েমেনে সংঘাত চলছে। পরবর্তী সময়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। দীর্ঘ সংঘাতের ফলে দেশটির অবকাঠামো, অর্থনীতি ও জনজীবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাত অনেকটা কমে এলেও সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে আবারও লড়াই বেড়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের এলাকাগুলো নিয়েও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে সামরিক সংঘাত তীব্র হলে ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। দেশটিতে দীর্ঘদিনের যুদ্ধের কারণে লাখো মানুষ খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে রয়েছেন।
আরও পড়ুন:







