সুদানের পশ্চিম কোরদোফান রাজ্যের আল-দিবাব শহরে বাজারসংলগ্ন একটি পরিবহনকেন্দ্রে ড্রোন হামলায় অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাজার করতে আসা সাধারণ মানুষ ও বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে এটি অন্যতম প্রাণঘাতী একক হামলা বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী আহমেদ ওয়াদি জানান, বাজারের কার্যক্রম শেষে গ্রামের বাড়িতে ফেরার জন্য পরিবহনকেন্দ্রে জড়ো হয়েছিলেন বহু মানুষ। এ সময় প্রায় ১০ মিনিটের ব্যবধানে সেখানে দুটি ড্রোন হামলা হয়।
ওয়াদির ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পর তিনি নিজ হাতে ৫০টি মরদেহ দাফনে সহায়তা করেন। নিহতদের মধ্যে তাঁর ভাই মোহাম্মদও রয়েছেন।
অন্যদিকে, আহত ৪৭ জনকে কাছের আল-মুজলাদ শহরে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসা সূত্র জানায়, তাঁদের মধ্যে ৩০ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৮০ জনে।
এ ছাড়া আল-মুজলাদে আরেকটি ড্রোন হামলায় চারজন আহত হয়েছেন বলে চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে। তবে হামলায় আহত ও নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হামলার জন্য সুদানের সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-সমর্থিত প্রশাসন। পশ্চিম কোরদোফান রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা বর্তমানে আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তবে হামলার দায় স্বীকার করে সুদানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার জন্য দায়ী পক্ষ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
সুদানে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে সংঘাত চলছে। ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে শুরু হওয়া এ যুদ্ধ ক্রমেই বিস্তৃত হয়েছে এবং দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বেসামরিক মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
সুদানের যুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন হামলার ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সংঘাতরত উভয় পক্ষই দূরপাল্লার হামলা ও সামরিক অভিযান পরিচালনায় ড্রোন ব্যবহার করছে। এর ফলে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও বাজার, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
এর আগে ১৬ অক্টোবর দক্ষিণ দারফুর রাজ্যের রাজধানী নিয়ালার একটি পশুর বাজারে ড্রোন হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত এবং ৪৭ জন আহত হন বলে চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছিল। ওই হামলার জন্য আরএসএফ সেনাবাহিনীকে দায়ী করলেও হামলার দায় নিয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জাতিসংঘের তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসেই সুদানে ড্রোন হামলায় এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সংঘাতে বিদেশি অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তির ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
দীর্ঘদিনের সংঘাতে সুদানের লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। খাদ্যসংকট, চিকিৎসাসেবার ঘাটতি এবং নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে দেশটির বহু অঞ্চলে মানবিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবিক সংস্থা বারবার বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ বাড়ানো এবং সংঘাত বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
আরও পড়ুন:







