News Ticker
221.png

দাঙ্গা ঠেকাতে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০৬

শেয়ার

শেয়ার

দাঙ্গা ঠেকাতে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি
ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সে টানা বিক্ষোভ, সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভের একপর্যায়ে সংঘর্ষ ও ভাঙচুর ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি বিক্ষোভ ও জনসমাবেশের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্যারিস, লিল ও নিসসহ বিভিন্ন শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় রাতের কারফিউ কার্যকর করা হয়। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, পুরো শহরে একযোগে কারফিউ জারির পরিবর্তে পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় ও সীমিত পরিসরে বিধিনিষেধ আরোপ করাই আপাতত সরকারের লক্ষ্য।

প্যারিসের পুলিশ কর্তৃপক্ষ শহরের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক এবং লে আল শপিং এলাকায় সোমবার রাত ১১টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করে। এসব এলাকায় রাতে প্রবেশ ও অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এ ছাড়া সোমবার রাত ৮টা থেকে রাজধানীর নির্দিষ্ট এলাকায় বিক্ষোভ ও জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।

কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, বিক্ষোভের সুযোগে আবারও দোকানপাটে লুটপাট, সরকারি স্থাপনায় হামলা এবং সড়কে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা ও জনবহুল স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।

উত্তর ফ্রান্সের লিলসহ কয়েকটি শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ১৮ বছরের কম বয়সীদের চলাচলে রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোমবার ও মঙ্গলবার রাতে এসব ব্যবস্থা কার্যকর রাখার কথা জানানো হয়।

এদিকে ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নিসেও অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য রাতের কারফিউ জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে মার্সেইয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিক্ষোভ ও জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।

ফ্রান্সে সাম্প্রতিক অস্থিরতার পেছনে রয়েছে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ে অসন্তোষ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে উদ্বেগ। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলনে পরে শিক্ষক, অভিভাবক, শ্রমিক ও বিভিন্ন সংগঠনের অংশগ্রহণ বাড়ে।

গত সপ্তাহান্তে দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের একপর্যায়ে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে দোকানপাট, সরকারি ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিছু এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষও হয়।

ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনায় দেশজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় এক হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমারি সদস্য আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

কয়েকটি শহরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের প্রস্তুতি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ স্বীকার করেছেন, কিছু এলাকায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়েছিল। এ বিষয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা এবং মাঠপর্যায়ে নতুন কৌশল গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও প্রেসিডেন্ট তা গ্রহণ করেননি। বরং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, পরিস্থিতির প্রয়োজন অনুযায়ী আরও কিছু এলাকায় কারফিউ জারি করা হতে পারে। তবে আপাতত পুরো শহরজুড়ে কারফিউ বা জরুরি অবস্থা ঘোষণার পরিবর্তে নির্দিষ্ট এলাকায় লক্ষ্যভিত্তিক বিধিনিষেধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ফরাসি সরকার অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে লুট হওয়া পণ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন সরিয়ে ফেলা এবং চুরি হওয়া মালামাল পুনর্বিক্রির ঘটনায় তদন্তে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।

বিক্ষোভের তীব্রতা কমলেও ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে জমায়েত ও আন্দোলনের আশঙ্কা রয়েছে। শ্রমিক সংগঠনগুলো আগামী ৫ নভেম্বর নতুন কর্মসূচি ও সমাবেশের ডাক দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারের সামনে এখন একদিকে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও নাগরিক অধিকার বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কারফিউ কতটা কার্যকর হয় এবং নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ChannelNRB Footer