News Ticker
221.png

কলম্বিয়ায় সোনার খনি ধসে নিহত ১৪

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৫০

শেয়ার

শেয়ার

কলম্বিয়ায় সোনার খনি ধসে নিহত ১৪
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় সোনার খনি ধসে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নারিনো প্রদেশের একটি অননুমোদিত উন্মুক্ত সোনার খনিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

নারিনো প্রদেশের সান্তা বারবারা দে ইসকুয়ান্দে পৌরসভার গ্রামীণ চামবেরো এলাকায় খনিটি অবস্থিত। ভূমিধসের কারণে খনির একটি অংশ ধসে পড়লে সেখানে কাজ করা শ্রমিকেরা মাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। প্রাথমিকভাবে নিহতের সংখ্যা কম থাকলেও উদ্ধারকাজের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়ায়।

দুর্ঘটনাস্থলটি ঘন বনাঞ্চলবেষ্টিত ও দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। সেখানে সড়কপথে সরাসরি পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় উদ্ধারকর্মীদের নৌকা ও ছোট উড়োজাহাজের ওপর নির্ভর করতে হয়। দুর্গম ভূপ্রকৃতির পাশাপাশি এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতিও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তৈরি করেছে।

নারিনো প্রদেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সাতজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করেছে।

কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতেই নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান শেষ করা হয়। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করাকে এখন অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত খনিটি সরকারি অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। অনিয়ন্ত্রিত ও অননুমোদিত খনিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা, স্থিতিশীল ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি উদ্ধারসুবিধার অভাব থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

নারিনো প্রদেশের গভর্নর লুইস আলফোনসো এসকোবার এ ঘটনাকে গভীর বেদনাদায়ক দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। স্থানীয় প্রশাসনের মতে, অনানুষ্ঠানিক খনন কার্যক্রমের ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

নারিনো প্রদেশে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে খনি দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। স্থানীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এ অঞ্চলে দুটি খনি ধসের ঘটনায় মোট ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে আগস্টে পোলিকারপা পৌরসভায় আরেকটি খনি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হন।

বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে অননুমোদিত খনন, শ্রমিকদের নিরাপত্তার ঘাটতি এবং দুর্গম এলাকায় জরুরি সহায়তা পৌঁছানোর সীমাবদ্ধতা।

কলম্বিয়ার কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চলে অননুমোদিত সোনা উত্তোলন স্থানীয় মানুষের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। একই সঙ্গে কিছু এলাকায় অবৈধ খনিজ ব্যবসার ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব পরিস্থিতিতে খনি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

কলম্বিয়ার মানবাধিকারবিষয়ক কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা, নিরাপদে জরুরি সেবা পৌঁছানো এবং অননুমোদিত খনন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

সোনার খনি ধসের এ ঘটনা দেশটিতে অনিরাপদ খনন কার্যক্রমের ভয়াবহ পরিণতি আবারও সামনে এনেছে। নিহতদের পরিবারের জন্য সহায়তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ChannelNRB Footer