News Ticker
221.png

বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে ইন্দোনেশিয়া, রাজধানীতে ৯ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:১৮

শেয়ার

শেয়ার

বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে ইন্দোনেশিয়া, রাজধানীতে ৯ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন
ছবি: সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় বিক্ষোভ ও জনসমাগম ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে দেশটির প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর ক্ষমতা গ্রহণের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের কর্মসূচি থাকায় রাজধানীতে ৯ হাজার ৫০০-এর বেশি যৌথ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন পুলিশ, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের সদস্যরা।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, জাকার্তায় নির্ধারিত বিক্ষোভ ও অন্যান্য জনসমাগমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৯ হাজার ৫০৫ জন যৌথ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৭ হাজার ৬৬০ জন পুলিশ সদস্য, ১ হাজার ৫৪০ জন সেনাসদস্য এবং বাকিরা স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তাকর্মী।

প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সরকারের দুই বছর পূর্তির দিনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর একাধিক স্থানে বিক্ষোভের আয়োজন করেন। এসব কর্মসূচিতে সাম্প্রতিক দাবানল, শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন এবং জাতীয় অর্থনীতির দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ উঠে এসেছে।

ইন্দোনেশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাম্প্রতিক বনাঞ্চলের আগুনকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি শেয়ারবাজারের দরপতন ও দেশটির মুদ্রা রুপিয়াহর দুর্বলতার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন। তাঁদের মতে, এসব পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতির ভঙ্গুরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস জাকার্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যানার টাঙিয়ে জলবায়ু সংকট মোকাবিলা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।

২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন প্রাবোও সুবিয়ান্তো। দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছর পূর্তির এই সময়ে তাঁর সরকারের প্রতি জনসমর্থন কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন জনমত জরিপে।

ইন্দোনেশিয়ার গবেষণা সংস্থা সাইফুল মুজানি রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিংয়ের (SMRC) জরিপ অনুযায়ী, চলতি মাসে প্রেসিডেন্টের অনুমোদন হার কমে ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে এই হার ছিল ৮১ দশমিক ২ শতাংশ।

সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের মধ্যেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি জননিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচল বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে বিক্ষোভে কতসংখ্যক মানুষ অংশ নেবেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ChannelNRB Footer