News Ticker
221.png

হরমুজের তলদেশের ইন্টারনেট সংযোগকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিলো ইরান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:২৬

শেয়ার

শেয়ার

হরমুজের তলদেশের ইন্টারনেট সংযোগকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিলো ইরান
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হলে হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া ইন্টারনেট কেবলকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এক মুখপাত্রের বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ এই ডিজিটাল অবকাঠামো ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইরানের রাজধানী তেহরানে এক অনুষ্ঠানে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেন, হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে সাতটি বড় ইন্টারনেট কেবল গেছে। এসব কেবলের মাধ্যমে ইন্টারনেট ও বাণিজ্যিক তথ্য আদান-প্রদান হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের ক্ষেত্রে নতুন লক্ষ্যবস্তু ও অস্ত্র প্রকাশের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। 

ইরানি কর্মকর্তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও যুদ্ধ শুরু হলে তেহরান আগের চেয়ে কঠোর জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি রাখছে। মোহেবি বলেন, নতুন করে সামরিক আগ্রাসন হলে যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুতর সমস্যার মুখে পড়তে হবে এবং বিশ্বকে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করতে হতে পারে।

এর আগে চলতি মাসেও ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আঞ্চলিক ডেটা সেন্টার, ইন্টারনেট কেবল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন।

এতে বোঝা যাচ্ছে, সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত অবকাঠামোকেও চাপ সৃষ্টির উপায় হিসেবে সামনে আনছে তেহরান। তবে হরমুজের তলদেশের কেবলগুলোতে হামলা চালানোর কোনো নিশ্চিত ঘটনা এখনো এই প্রতিবেদনগুলোর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থার জন্যও সমুদ্রতলের ফাইবার-অপটিক কেবল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এসব কেবলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ট্রাফিক, ক্লাউডভিত্তিক সেবা এবং বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক তথ্য আদান-প্রদান হয়। ফলে কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু একটি দেশের নয়, একাধিক দেশের যোগাযোগ ও ডিজিটাল সেবায় বিঘ্ন ঘটতে পারে।

ব্যাংকিং লেনদেন, অনলাইন যোগাযোগ, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং ক্লাউড সেবার মতো ক্ষেত্রগুলোও সংযোগ বিচ্ছিন্নতা বা ধীরগতির কারণে প্রভাবিত হতে পারে। তবে ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করবে কোন কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বিকল্প রুট কতটা সচল রয়েছে এবং মেরামত করতে কত সময় লাগছে তার ওপর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রতলের কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিকল্প সংযোগপথ ব্যবহার করে অনেক ক্ষেত্রে ডেটা ট্রাফিক অন্য রুটে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব। তবে বিকল্প পথের সক্ষমতা সীমিত হলে ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে এবং কিছু ডিজিটাল সেবায় বিঘ্ন দেখা দিতে পারে।

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কেবল মেরামতের কাজও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। নিরাপত্তাঝুঁকি, নৌ চলাচলের বিধিনিষেধ এবং প্রয়োজনীয় মেরামতকারী জাহাজের প্রবেশাধিকার এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে বিরোধ এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তার মধ্যে নতুন এই হুঁশিয়ারি সামনে এল। পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

ChannelNRB Footer