উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর নতুন ছবি প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। ‘মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মৃত্যু’ এবং কোমায় চলে যাওয়ার দাবির মধ্যেই মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত ছবিতে তাঁকে একটি পোশাক ও জুতার প্রদর্শনী পরিদর্শন করতে দেখা গেছে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানিয়েছে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে আয়োজিত পোশাক ও জুতার প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন কিম। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন মেয়ে কিম জু-আয়ে এবং স্ত্রী রি সল-জু। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মৃত্যুর দাবির বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার সরকার সরাসরি কোনো বক্তব্য দেয়নি।
গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিম জং উনের গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুর দাবি ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চীনা ভিন্নমতাবলম্বী ওয়ানজুন শিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দাবি করেন, কিম মস্তিষ্কে গুরুতর রক্তক্ষরণের শিকার হয়েছেন, কোমায় চলে গেছেন এবং চিকিৎসার জন্য তাঁকে চীনের বেইজিংয়ে নেওয়া হয়েছিল।
ওই ব্যক্তি আরও দাবি করেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিমের মৃত্যু হয়েছে এবং তাঁর মরদেহ গোপনে উত্তর কোরিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে তিনি কোনো চিকিৎসা নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য কিংবা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এ ধরনের দাবির পক্ষে কোনো তথ্য পাওয়ার কথা জানাননি।
কেসিএনএর প্রকাশিত ছবিতে কিম জং উনকে পোশাক ও জুতার প্রদর্শনীতে বিভিন্ন পণ্য পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়। একটি ছবিতে তাঁকে শিশুদের ছোট একটি গোলাপি জুতা হাতে নিয়ে পরীক্ষা করতে দেখা গেছে। অন্য ছবিতে প্রদর্শনীতে রাখা পোশাক দেখার পাশাপাশি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায় তাঁকে।
ছবিতে তাঁর সঙ্গে মেয়ে কিম জু-আয়ে ও স্ত্রী রি সল-জুকেও দেখা গেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রদর্শনীতে দেশের বিভিন্ন কারখানায় তৈরি পোশাক ও জুতা তুলে ধরা হয়।
তবে ছবিগুলো উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত। আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের সরাসরি উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটি পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে ছবিগুলো ঠিক কখন ধারণ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
উত্তর কোরিয়ার শাসনব্যবস্থা অত্যন্ত গোপনীয় হওয়ায় দেশটির শীর্ষ নেতার স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন। কিম জং উন কিছু সময় জনসমক্ষে না এলেই তাঁর অসুস্থতা কিংবা নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে।
২০২০ সালেও কিমের স্বাস্থ্য নিয়ে একই ধরনের গুজব ছড়িয়েছিল। সে সময়ও তাঁর মৃত্যু বা গুরুতর অসুস্থতার দাবি সামনে আসে। পরে তিনি জনসমক্ষে উপস্থিত হলে ওই জল্পনা নতুন করে আলোচনায় আসে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা গত ৩০ সেপ্টেম্বর আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছিল, কিমের ওজন আনুমানিক ১৪০ কেজি এবং তাঁর স্থূলতাসংশ্লিষ্ট হৃদ্রোগের ঝুঁকি রয়েছে। তবে সংস্থাটি তাঁর সাম্প্রতিক প্রকাশ্য কার্যক্রমে গুরুতর স্বাস্থ্যগত অস্বাভাবিকতার স্পষ্ট লক্ষণ শনাক্ত করার কথা জানায়নি।
কিমের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে তাঁর মেয়ে কিম জু-আয়ে এবং বোন কিম ইয়ো-জংয়ের নাম উঠে আসে।
তবে কিমের উত্তরসূরি কে হবেন, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই। সাম্প্রতিক ছবিতে মেয়ের উপস্থিতি থাকলেও সেটিকে উত্তরাধিকার নির্ধারণের নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
আরও পড়ুন:







