News Ticker
221.png

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় টাইফুন যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৫৬

শেয়ার

শেয়ার

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় টাইফুন যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করতে টাইফুন যুদ্ধবিমান পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (RAF) এসব যুদ্ধবিমান সৌদি আরবের শহর, বেসামরিক জনগণ এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনা সুরক্ষায় প্রতিরক্ষামূলক আকাশ অভিযান পরিচালনা করবে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হুমকি মোকাবিলা এবং সৌদি আরবের আকাশসীমা সুরক্ষায় বিদ্যমান সামরিক সহায়তার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং জানিয়েছেন, সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষায় সহায়তা দিতে টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হবে। এসব বিমান আকাশপথে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হুমকি মোকাবিলায় কাজ করবে।

তবে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে সরাসরি আক্রমণ চালানো এই মিশনের অংশ হবে না বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। অর্থাৎ, ঘোষিত পরিকল্পনায় টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলোর ভূমিকা হবে প্রতিরক্ষামূলক।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জনবসতিকে আকাশপথের হামলা থেকে রক্ষা করা এ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।

টাইফুন যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি সৌদি আরবে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের জন্য একটি RAF A400M পরিবহন বিমান পাঠাবে যুক্তরাজ্য। এ ছাড়া সৌদি সামরিক কর্মকর্তাদের সহায়তায় ব্রিটিশ সামরিক উপদেষ্টারাও কাজ করবেন।

এর আগে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামরিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। সৌদি যুদ্ধবিমানগুলোর অভিযানে সহায়তার জন্য আকাশে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থাও চালু রয়েছে। নতুন ঘোষণায় এই রিফুয়েলিং সহায়তা আরও ৯০ দিন বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

ব্রিটিশ সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন পদক্ষেপগুলো সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় বিদ্যমান সহযোগিতারই সম্প্রসারণ।

ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি সৌদি ভূখণ্ডেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘিরে হামলার হুমকি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে বিমানবন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সৌদি আরবে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান মোতায়েনের সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সহযোগিতা আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের সংঘাতের প্রভাব সৌদি আরবের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহের ওপরও পড়তে পারে।

ব্রিটিশ সরকারের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত বাড়লে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাজার এবং যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে যুদ্ধবিমান মোতায়েনের ফলে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে আসবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ হামলার মাত্রা, আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর।

সামরিক প্রতিরক্ষা জোরদারের পাশাপাশি ইয়েমেন সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত দেশটির বেসামরিক জনগণের ওপর মানবিক সংকট আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, হুথিদের হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সহায়তা দেওয়া হলেও ঘোষিত টাইফুন অভিযান সরাসরি আক্রমণাত্মক অভিযান হবে না। ফলে এই মোতায়েনের প্রকৃত প্রভাব বোঝার জন্য পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ এবং কূটনৈতিক তৎপরতার দিকে নজর রাখতে হবে।

ChannelNRB Footer