News Ticker
221.png

বিক্ষোভ-সহিংসতার জেরে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বাড়ল কারফিউ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:১৭

শেয়ার

শেয়ার

বিক্ষোভ-সহিংসতার জেরে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বাড়ল কারফিউ
ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে দেশটির সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে কারফিউয়ের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় নতুন করে কারফিউ জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন বিক্ষোভ মোকাবিলায় বড় ধরনের নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

রাজধানী প্যারিসের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কারফিউ বাড়ানো হয়েছে। এর আওতায় রয়েছে প্লাস দে লা রেপুবলিক এবং লে আল এলাকার কিছু অংশ। পাশাপাশি সন্ধ্যা ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অননুমোদিত জমায়েত ও বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে।

দেশটির অন্যতম বড় শহর লিয়ঁর কেন্দ্রীয় এলাকায় রাত ৯টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কারফিউ পুনর্বহাল করা হয়েছে। সেখানে বিক্ষোভ-সমাবেশের ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

এদিকে মার্সেই শহরের কিছু এলাকায় অভিভাবক ছাড়া চলাফেরা করা অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। টুলুজ শহরেও বৃহস্পতিবার থেকে রোববার পর্যন্ত রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বোর্দো ও নিস শহরেও আগে ঘোষিত বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে।

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ থেকে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সূত্রপাত। গত ১৭ অক্টোবর দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে।

সহিংসতার সময় বিভিন্ন স্থানে গাড়িতে আগুন দেওয়া, দোকানপাটে লুটপাট এবং সরকারি স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে। মধ্য ফ্রান্সের লিমোজ শহরের ঐতিহাসিক সিটি হলেও আগুন লাগার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সহিংসতার ঘটনায় দেশজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে শত শত ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য প্রসিকিউটরদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু বলেছেন, জনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা করা সরকারের অগ্রাধিকার। পরিস্থিতি অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দিষ্ট এলাকায় আংশিক ও সীমিত সময়ের জন্য কারফিউ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, আগামী শনিবার নতুন করে বিক্ষোভের কর্মসূচি থাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পাহারা দিতে সেনাসদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যাতে পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্যরা বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন।

সাম্প্রতিক সহিংসতা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি ও ভূমিকা নিয়ে দেশটিতে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন শহরের মেয়ররা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে সরকার সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

ChannelNRB Footer