News Ticker
221.png

বিক্ষোভ-সহিংসতা থামাতে এক শহরে ৫০০ সেনা পাঠাচ্ছে ইতালি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:২০

শেয়ার

শেয়ার

বিক্ষোভ-সহিংসতা থামাতে এক শহরে ৫০০ সেনা পাঠাচ্ছে ইতালি
ছবি: সংগৃহীত

ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় শহর মিলানে বিক্ষোভ-সহিংসতা ও লুটপাট নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ৫০০ সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি এবং সরকারি পরিষেবার মান নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভের একপর্যায়ে সংঘর্ষ, দোকানপাটে লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি সহিংস বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধানও চালু করেছে সরকার।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা নতুন নিরাপত্তা অধ্যাদেশ অনুমোদন করে। বুধবার (২১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

ইতালির সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মিলানে অতিরিক্ত ৫০০ সেনা মোতায়েন করা হবে। ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত তাঁদের মোতায়েন রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

সেনাসদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্পর্শকাতর এলাকায় নজরদারি বাড়ানো এবং সার্বিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহায়তা করবেন। তবে সেনাবাহিনীকে পুলিশের মতো অতিরিক্ত গ্রেপ্তার ও তদন্তের ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে সে ধরনের ক্ষমতা সম্প্রসারণ করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানি জানিয়েছেন, সহিংসতা মোকাবিলায় সরকার কঠোর অবস্থান নেবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপও জোরদার করা হবে।

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) মিলানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি, উচ্চ বাড়িভাড়া এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে শান্তিপূর্ণভাবে চলা কর্মসূচির একপর্যায়ে বিক্ষোভের প্রান্তে থাকা কয়েকটি দল সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে।

রোববারও শহরের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ দোকানের জানালা ভাঙচুর করে, বিভিন্ন পণ্য লুট করে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। তুরিন ও বোলোনিয়াসহ ইতালির আরও কয়েকটি শহরেও বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা দেখা দেয়।

মিলানের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে বেশ কিছু বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের দোকান সতর্কতামূলকভাবে বন্ধ রাখা হয়। গুরুত্বপূর্ণ দোকান ও স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

নতুন নিরাপত্তা অধ্যাদেশে সহিংস বিক্ষোভে অংশগ্রহণের জন্য পৃথক অপরাধের বিধান রাখা হয়েছে। পাঁচজনের বেশি মানুষের কোনো দলের সদস্যরা বিক্ষোভের সময় বিপজ্জনক বস্তু বেআইনিভাবে ব্যবহার করে জননিরাপত্তার জন্য বাস্তব হুমকি তৈরি করলে তাঁদের বিরুদ্ধে এ বিধান প্রয়োগ করা হতে পারে।

অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। সহিংসতার সময় মুখ ঢেকে রাখা বা অন্যদের আহত করার মতো পরিস্থিতিতে আরও কঠোর শাস্তি হতে পারে।

এ ছাড়া সংঘর্ষে সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হলে দায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের কারণে ক্ষতি হলে নির্দিষ্ট আইনি শর্তে তাঁদের অভিভাবকদের আর্থিক দায় বহনের বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন অধ্যাদেশে কিশোর অপরাধ মোকাবিলায়ও একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের সম্ভাব্য বিপজ্জনক আচরণের বিষয়ে প্রমাণ থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে অপরাধ সংঘটনের আগেও তাঁদের আটক রাখার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে।

এ ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করা, সংঘবদ্ধ ভাঙচুরের ঘটনায় পরে গ্রেপ্তারের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং কিশোর বিচারব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের দাবি, এসব ব্যবস্থার লক্ষ্য শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার অক্ষুণ্ন রেখে সহিংসতা, লুটপাট ও সম্পত্তি ধ্বংসের মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা। তবে নতুন বিধানগুলোর প্রয়োগ নিয়ে ইতালিতে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কও রয়েছে।

মিলানে সাম্প্রতিক সহিংসতায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মেলোনির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং ৩৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্করাও রয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আসন্ন শনিবার নতুন বিক্ষোভ কর্মসূচির আশঙ্কায় নিরাপত্তা প্রস্তুতি বাড়ানো হচ্ছে।

ChannelNRB Footer