সৌদি আরবের মদিনা ও পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে উড়ে আসা পাঁচটি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। বুধবার (২১ অক্টোবর) জোটের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এ তথ্য জানান।
তবে ড্রোন হামলার পেছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে জোটের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি। অন্যদিকে, হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবের মদিনা লক্ষ্য করে ড্রোন পাঠানো এবং বুধবার সৌদি আরবের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানান, সৌদি আরবের দিকে আসা চারটি ড্রোন শনাক্ত করে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। ড্রোনগুলো মদিনা ও পূর্বাঞ্চলের দিকে আসছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরে পৃথক আরেকটি বিবৃতিতে পূর্বাঞ্চলের দিকে আসা আরও একটি ড্রোন ধ্বংস করার কথা জানান তিনি। সব মিলিয়ে পাঁচটি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে জোট।
তবে ড্রোনগুলোর উৎক্ষেপণস্থল, নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু কিংবা সেগুলো ধ্বংস করার সময় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত বেড়েছে। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হুথিরা এর আগে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে হুথি নিয়ন্ত্রিত অবস্থানগুলোতে বিমান হামলা চালিয়েছে।
২০১৫ সাল থেকে সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, হুথিরা ২০১৪ সাল থেকে রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে।
মদিনা ইসলামের অন্যতম পবিত্র শহর। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারক ও মসজিদে নববীর অবস্থানের কারণে শহরটির নিরাপত্তা নিয়ে যেকোনো ধরনের উদ্বেগ আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব পায়।
সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের আকাশসীমা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও বুধবারের ঘটনায় মদিনায় কোনো ড্রোন আঘাত হেনেছে বা সেখানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। জোটের দাবি অনুযায়ী, ড্রোনগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করা হয়েছে।
সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামো, বিমান চলাচল এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
আরও পড়ুন:







