ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রাতের প্রশিক্ষণ শেষে ঘাঁটিতে ফেরার পথে একটি সামরিক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে দেশটির মের্ত-এ-মোজেল অঞ্চলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিধ্বস্ত বিমানটির নাম মিরাজ ২০০০ডি। এতে দুইজন ক্রু ছিলেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং অপরজনকে খুঁজে বের করতে তল্লাশি অভিযান চলছিল।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম ও সামরিক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে রোজেভিল এলাকার কাছে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। স্থানটি ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ন্যান্সি শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।
বিমানটি ন্যান্সি-ওশে সামরিক বিমানঘাঁটির অধীন ছিল। রাতের প্রশিক্ষণ মিশন শেষ করে ঘাঁটিতে ফেরার সময় এটি দুর্ঘটনার শিকার হয় বলে জানিয়েছে ফরাসি সামরিক কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার এবং আকাশে আগুনের গোলার মতো দৃশ্য দেখার কথা জানিয়েছেন। তবে কী কারণে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
ফরাসি বিমান ও মহাকাশ বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বিমানটিতে একজন তরুণ প্রশিক্ষণরত যুদ্ধবিমানের পাইলট এবং একজন অভিজ্ঞ অস্ত্রব্যবস্থা কর্মকর্তা ছিলেন। দুর্ঘটনার পর একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অপর ক্রুর সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছিল।
প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম বনাঞ্চলের কারণে উদ্ধারকাজে বাধার সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনাস্থল চিহ্নিত করার পর উদ্ধারকারী দল, পুলিশ, অগ্নিনির্বাপণকর্মী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা তল্লাশিতে অংশ নেয়। ড্রোনের সহায়তায় ধ্বংসাবশেষের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থল নিরাপদ রাখা হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে এলাকায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল ফ্রান্সের মিরাজ ২০০০ডি মডেলের একটি দুই আসনের যুদ্ধবিমান। ফরাসি বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান দাসো অ্যাভিয়েশন নির্মিত মিরাজ ২০০০ পরিবারের এই সংস্করণ মূলত আকাশ থেকে ভূমিতে আক্রমণ এবং নির্ভুল হামলার মতো সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহৃত হয়।
বিমানটি প্রতিকূল পরিবেশে সামরিক অভিযান পরিচালনার উপযোগী করে তৈরি। এতে পাইলটের পাশাপাশি অস্ত্রব্যবস্থা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আরেকজন ক্রু থাকেন।
মিরাজ ২০০০ডি ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকে ফরাসি সামরিক বাহিনীর বহরে রয়েছে। কসোভো, আফগানিস্তান, লিবিয়া, ইরাক ও সিরিয়াসহ বিভিন্ন সামরিক অভিযানে এ ধরনের বিমান ব্যবহার করেছে ফ্রান্স।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ফরাসি কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। বিমানটি যান্ত্রিক ত্রুটি, আবহাওয়াজনিত সমস্যা, উড্ডয়ন বা অবতরণ-সংক্রান্ত জটিলতা কিংবা অন্য কোনো কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে কি না, তা তদন্তের আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
সামরিক ঘাঁটির কমান্ডার কর্নেল লুদোভিক হামবার্ট জানিয়েছেন, বিমানের একজন ক্রু ছিলেন অভিজ্ঞ অস্ত্রব্যবস্থা কর্মকর্তা এবং অন্যজন ছিলেন তরুণ পাইলট। বিমানটি সম্প্রতি সংস্কার করা হয়েছিল বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তবে সাম্প্রতিক সংস্কার করা হয়ে থাকলেও তা দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণের জন্য যথেষ্ট নয়। তদন্তকারীদের বিমানটির রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত নথি, উড্ডয়ন তথ্য, আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে দেখতে হবে।
দুর্ঘটনাস্থল বনাঞ্চলে হওয়ায় উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। রাতের অন্ধকার, প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধারকারী দলকে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হয়।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাস্থলে পুলিশ, অগ্নিনির্বাপণকর্মী ও সামরিক সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। নিখোঁজ ক্রুর সন্ধান এবং দুর্ঘটনার আলামত সংগ্রহ—দুটি বিষয়ই উদ্ধার অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
প্রশিক্ষণ ফ্লাইট সামরিক পাইলটদের দক্ষতা বজায় রাখা এবং জটিল পরিস্থিতিতে অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে রাতের উড্ডয়ন, প্রতিকূল আবহাওয়া ও অবতরণের সময় বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন:







