সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও পবিত্র নগরী মদিনা অঞ্চলে চারটি ড্রোন প্রতিহত করে ধ্বংস করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জোটের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে নতুন করে ড্রোন ভূপাতিত করার এ ঘটনা উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে চারটি ড্রোন শনাক্ত করে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ড্রোনগুলো কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, সেগুলোর নির্দিষ্ট লক্ষ্য কী ছিল কিংবা ঘটনাটিতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না—তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হুমকি বেড়েছে। বিশেষ করে রাজধানী রিয়াদ, মদিনা অঞ্চল এবং দেশটির পূর্বাঞ্চলকে ঘিরে একাধিক নিরাপত্তা ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।
বুধবারও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দেশটির দিকে আসা একাধিক ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছিল। এর মধ্যে মদিনা ও পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় ড্রোন ধ্বংসের তথ্যও ছিল।
এর আগে রিয়াদকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার খবর প্রকাশিত হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের এসব ঘোষণার পর দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে একই পক্ষ জড়িত কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো পূর্ণাঙ্গ তথ্য সব ক্ষেত্রে পাওয়া যায়নি।
ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনের বিরুদ্ধে সৌদি আরব ও সংশ্লিষ্ট সামরিক জোটের পক্ষ থেকে অতীতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে। ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা এই গোষ্ঠী ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে।
তবে বুধবার মদিনার দিকে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুথিরা। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, তারা ওই দিন মদিনাকে লক্ষ্য করে কোনো ড্রোন পাঠায়নি এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধেও কোনো সামরিক অভিযান চালায়নি।
ফলে সর্বশেষ চারটি ড্রোনের উৎস সম্পর্কে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিস্তারিত বক্তব্য না আসা পর্যন্ত এ ঘটনায় হুথিদের সরাসরি দায়ী করা যাচ্ছে না।
২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটিতে সংঘাত তীব্র হয়। পরের বছর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে সামরিক জোট অভিযান শুরু করে।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর সীমান্তপারের হামলা অনেকাংশে কমে এলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবারও সংঘাত বেড়েছে। সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ এবং ইয়েমেনে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এ সংঘাতের প্রভাব শুধু ইয়েমেন ও সৌদি আরবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ইরানের ভূমিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সামরিক উত্তেজনার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে।
সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা, বিমানবন্দর ও পরিবহন অবকাঠামোর নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা বাড়লে বিমান চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যে প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা জোরদার করতে সামরিক ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।
তবে সর্বশেষ ড্রোন প্রতিহত করার ঘটনায় তেল সরবরাহ বা বিমান চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে ড্রোন প্রতিহত করার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন ইয়েমেনের সংঘাত নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক হুমকি মোকাবিলা করলেও হামলার উৎস, লক্ষ্য এবং সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
আরও পড়ুন:







