যুক্তরাষ্ট্রের ‘মাদার অব অল বোম্বস’-এর পাল্টা হিসেবে ‘ফাদার অব অল বোম্বস’ নামে নতুন একটি অস্ত্র উন্মোচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি এ ঘোষণা দিয়েছেন। তবে নতুন অস্ত্রটির প্রকৃতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কিংবা ধ্বংসক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ইরানের ইয়ং জার্নালিস্টস ক্লাবের বরাতে এ ঘোষণা প্রকাশিত হয়। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, ‘ফাদার অব অল বোম্বস’ উন্মোচনের প্রস্তুতি চলছে। এটি প্রতিপক্ষের জন্য নতুন কিছু হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের এ ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা চলছে।
কী এই ‘ফাদার অব অল বোম্বস’?
ইরানের ঘোষণায় নতুন অস্ত্রটির নাম সামনে এলেও এটি প্রচলিত বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র নাকি অন্য কোনো ধরনের সামরিক ব্যবস্থা—তা এখনো স্পষ্ট নয়। এর ওজন, বিস্ফোরক বহনক্ষমতা, পাল্লা, লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের নির্ভুলতা কিংবা পরীক্ষামূলক ব্যবহারের কোনো তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।
ফলে অস্ত্রটির প্রকৃত সক্ষমতা সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। সামরিক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে শুধু নাম বা সরকারি ঘোষণার ভিত্তিতে কোনো অস্ত্রের ধ্বংসক্ষমতা নির্ধারণ করা যায় না; এর প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা পরীক্ষার ফলও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে নামকরণের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি সামরিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে তেহরান—এমন ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বহুল আলোচিত ‘মাদার অব অল বোম্বস’-এর সঙ্গে তুলনা করে নতুন অস্ত্রটির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘মাদার অব অল বোম্বস’ কতটা শক্তিশালী?
যুক্তরাষ্ট্রের জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (MOAB) বোমাটি ‘মাদার অব অল বোম্বস’ নামে পরিচিত। এটি বিশ্বের বৃহত্তম প্রচলিত, অর্থাৎ অ-পারমাণবিক বোমাগুলোর অন্যতম।
বোমাটির ওজন প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কেজি বা ৯ দশমিক ৮ টন। এটি জিপিএস-নির্দেশিত এবং বিস্ফোরণের মাধ্যমে বিস্তৃত এলাকায় শক্তিশালী চাপতরঙ্গ সৃষ্টি করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের খোরাসান শাখার একটি সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক লক্ষ্য করে এ বোমা ব্যবহার করে।
তবে এটি পারমাণবিক অস্ত্র নয়। এর বিপুল ধ্বংসক্ষমতা থাকলেও গভীর ভূগর্ভস্থ, শক্তিশালী শিলা বা কংক্রিটের আড়ালে থাকা স্থাপনা ধ্বংস করার ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
ইরানের নতুন অস্ত্রের সঙ্গে মার্কিন বোমাটির প্রকৃত তুলনা করতে হলে আগে তেহরানকে নতুন অস্ত্রটির প্রযুক্তিগত তথ্য প্রকাশ করতে হবে।
ইরানের নতুন অস্ত্র উন্মোচনের ঘোষণার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে চলমান আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা নিয়ে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার বিরুদ্ধে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
এ পরিস্থিতিতে ইরানের নতুন অস্ত্রের ঘোষণা প্রতিপক্ষকে সতর্ক করার পাশাপাশি সম্ভাব্য সামরিক হামলা ঠেকাতে প্রতিরোধমূলক বার্তা দেওয়ার প্রচেষ্টা হতে পারে।
নতুন অস্ত্র উন্মোচনের ঘোষণার পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়েও বক্তব্য দিয়েছেন আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি।
তাঁর দাবি, ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাতের পর দেশটির ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দেড় গুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা, ধ্বংসক্ষমতা এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের নির্ভুলতাও উন্নত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুন:







