News Ticker
221.png

সৌদি আরবে পৃথক হামলায় একদিনে নিহত ৪

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:০৮

শেয়ার

শেয়ার

সৌদি আরবে পৃথক হামলায় একদিনে নিহত ৪
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে বিমানবন্দর ও তেলক্ষেত্রকে ঘিরে পৃথক হামলার ঘটনায় একদিনে চারজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) দেশটির দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আরামকোর শাইবাহ তেলক্ষেত্রে এসব ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরে হামলায় দুইজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, শাইবাহ তেলক্ষেত্রে একটি ড্রোন প্রতিহত করার পর এর ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুইজন নিহত এবং আরও দুইজন আহত হন। নিহতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে এসব ঘটনা ঘটল। তবে বিমানবন্দরে হামলার জন্য দায়ী পক্ষ সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামে অবস্থিত কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বুধবার সন্ধ্যায় হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলায় দুইজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হামলায় বিমানবন্দরের কিছু স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করে।

হামলার কারণে কিছু ফ্লাইটের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং কয়েকটি উড়োজাহাজকে বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানোর খবর পাওয়া যায়। পরে বিমানবন্দরের কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিক হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

তবে হামলায় কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল এবং সেটি কোথা থেকে পরিচালিত হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

একই দিনে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত আরামকো পরিচালিত শাইবাহ তেলক্ষেত্রেও হামলার চেষ্টা হয়। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তেল প্রক্রিয়াকরণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে আসা একটি ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়।

ড্রোনটি ধ্বংস করার পর এর ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুইজন নিহত হন। নিহতদের একজন ফিলিপাইনের এবং অন্যজন নেপালের নাগরিক। এ ঘটনায় পাকিস্তান ও ভারতের একজন করে নাগরিক আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।

ধ্বংসাবশেষ পড়ে তেলক্ষেত্রের বাইরে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে আগুন ধরে যায়। তবে মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় তেলক্ষেত্রের উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি।

শাইবাহ তেলক্ষেত্র সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর একটি। দৈনিক প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের সক্ষমতা থাকায় স্থাপনাটির নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনের সঙ্গে সৌদি আরবের সামরিক উত্তেজনা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দেশটির দিকে ধেয়ে আসা একাধিক ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চল ও মদিনা অঞ্চলের আকাশে ড্রোন ধ্বংসের ঘটনাও রয়েছে।

সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে।

সাম্প্রতিক হামলাগুলোর বিষয়ে হুথিদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে আলোচনা হলেও প্রতিটি ঘটনার দায় ও অস্ত্রের উৎস আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। বিমানবন্দর ও শাইবাহ তেলক্ষেত্রে হামলার মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার মতো তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।

সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ। দেশটির তেলক্ষেত্র, প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র, বিমানবন্দর ও পরিবহন অবকাঠামোতে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।

যদিও শাইবাহ তেলক্ষেত্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে নিরাপত্তা ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

একই সঙ্গে বিমানবন্দরে হামলার কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সময়সূচি এবং আঞ্চলিক বিমান চলাচল নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

ChannelNRB Footer