News Ticker
221.png

তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৩৫

আপডেট: ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৪৫

শেয়ার

শেয়ার

তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
ছবি: সংগৃহীত

চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের উত্তরাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটের দিকে নাগচু (Nagqu) অঞ্চলে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.০। এর পর ওই অঞ্চলে আরও কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস এবং চীনের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কর্তৃপক্ষের তথ্যের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ খবর জানিয়েছে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের উত্তরাঞ্চলের নাগচু এলাকার একটি দুর্গম ও জনবিরল অঞ্চলে। তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে ভূমিকম্পের কেন্দ্র প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির গভীরতা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে কিছু পার্থক্য রয়েছে। চীনের ভূমিকম্প নেটওয়ার্ক কেন্দ্র উৎপত্তিস্থলের গভীরতা প্রায় ১০ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে ইউএসজিএসের হিসাবে গভীরতা প্রায় ১৮ কিলোমিটার।

প্রধান ভূমিকম্পের পর তিব্বত অঞ্চলে আরও কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। প্রাথমিক ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ তথ্যে ৫.২ মাত্রার একটি পরবর্তী কম্পনের উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে সব কম্পনের সুনির্দিষ্ট সময়, অবস্থান ও মাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর হালনাগাদ তথ্য প্রয়োজন।

প্রধান ভূমিকম্পের পর একই অঞ্চলে আবার কম্পন অনুভূত হলে তা ভূমিকম্প-পরবর্তী কম্পন বা আফটারশক হতে পারে। এসব কম্পনের মাত্রা কখনো মূল ভূমিকম্পের তুলনায় কম হলেও দুর্বল ভবন ও আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ভূগর্ভস্থ শিলাস্তরে চাপের পুনর্বণ্টন ঘটতে পারে। এর ফলে একই এলাকায় পরবর্তী কম্পন সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় কখন বা কত মাত্রার পরবর্তী কম্পন হবে, তা নির্ভুলভাবে আগাম বলা সম্ভব নয়।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল তিব্বতের নাগচু অঞ্চলের একটি উচ্চভূমি এলাকায়। অঞ্চলটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে অবস্থিত এবং এর আশপাশে বিস্তীর্ণ পাহাড়ি ও দুর্গম ভূখণ্ড রয়েছে।

এ ধরনের এলাকায় ভূমিকম্পের পর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র সংগ্রহ করা কঠিন হতে পারে। যোগাযোগব্যবস্থা, সড়ক এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতিও উদ্ধার ও পরিদর্শন কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে ভূমিকম্পের মাত্রা বেশি হলেই ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে বলে ধরে নেওয়া যায় না। ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করে ভূমিকম্পের গভীরতা, জনবসতির ঘনত্ব, ভবনের নির্মাণমান এবং স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতির ওপর।

তিব্বত ও হিমালয় অঞ্চল পৃথিবীর অন্যতম সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। ভারতীয় টেকটোনিক প্লেট উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে ইউরেশীয় প্লেটের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ায় এ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে ভূত্বকে চাপ তৈরি হচ্ছে।

এই প্লেটগুলোর পারস্পরিক গতির কারণে ভূত্বকে বিকৃতি, চ্যুতি বা ফল্ট বরাবর সঞ্চিত শক্তির আকস্মিক মুক্তি ঘটতে পারে। এর ফলে মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়।

তিব্বত মালভূমি, হিমালয়ের আশপাশ এবং চীনের পশ্চিমাঞ্চলে অতীতেও একাধিক বড় ভূমিকম্প হয়েছে। ফলে এ অঞ্চলে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ, ভবনের নিরাপত্তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভূমিকম্পের পরপরই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হতাহত বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ChannelNRB Footer