চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। ভূমিকম্পে শত শত ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটের দিকে উত্তর তিব্বতের নাগচু অঞ্চলে ৭ মাত্রার এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা অন্তত ১৬। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পে নাগচু অঞ্চলে অন্তত ৩৩৯টি বাড়ি এবং গবাদিপশু রাখার ২০টি ঘর ধসে পড়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নাগচু শহর থেকে প্রায় ১৯১ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে। তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে এলাকাটি প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ভূমিকম্পের পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা শুরু করে চীনা কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার অভিযানে ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য তাঁবু, অস্থায়ী আবাসন, ভাঁজ করা খাট, টর্চলাইট ও শীতবস্ত্র পাঠানো হয়েছে।
তবে দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, ভূমিধস ও পাথর গড়িয়ে পড়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকটি সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কিছু রেলপথে ট্রেন চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। সেখানে তাপমাত্রা কম থাকায় খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেওয়া মানুষের দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী কয়েক দিন তুষারপাতের পূর্বাভাসও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
ভূমিকম্পের পর একাধিক পরাঘাত বা আফটারশক অনুভূত হয়েছে। ইউএসজিএসের পর্যবেক্ষণে কয়েকটি পরাঘাতের মাত্রা ৪ থেকে ৫-এর বেশি ছিল। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা জোরদার করেছে। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
প্রাথমিকভাবে জনবসতি তুলনামূলক কম হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা সীমিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হলেও দুর্গম এলাকাগুলোর পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার পর পরিস্থিতির আরও স্পষ্ট চিত্র জানা যাবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেও তিব্বতের শিগাৎসে অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছিল। নতুন এই ভূমিকম্পের পর আবারও অঞ্চলটির ভূমিকম্পঝুঁকি ও দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন:







