News Ticker
221.png

টাইফুন চাম্পির তাণ্ডবে বিপর্যস্ত তাইওয়ান-জাপান, বন্ধ স্কুল- কলেজ ও অফিস

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:১৭

শেয়ার

শেয়ার

টাইফুন চাম্পির তাণ্ডবে বিপর্যস্ত তাইওয়ান-জাপান, বন্ধ স্কুল- কলেজ ও অফিস
ছবি: সংগৃহীত

প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী টাইফুন ‘চাম্পি’র প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তাইওয়ান। প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টিপাত ও উত্তাল সমুদ্রের কারণে দ্বীপজুড়ে দেখা দিয়েছে জনজীবনে ব্যাপক অচলাবস্থা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) তাইওয়ানের অধিকাংশ এলাকায় স্কুল-কলেজ ও অফিস বন্ধ রাখা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে শত শত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। একই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে।

শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় চাম্পি তাইওয়ানের কাছাকাছি অবস্থান করছে। আগে সুপার টাইফুনে রূপ নেওয়া ঝড়টি তাইওয়ানের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় কিছুটা দুর্বল হলেও এর সঙ্গে থাকা প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত এখনো বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

টাইফুনের প্রভাব মোকাবিলায় তাইওয়ানের অধিকাংশ অঞ্চলে সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিসের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন স্থানীয় প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নেয়।

রাজধানী তাইপেসহ বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। প্রবল বাতাসের কারণে রাস্তাঘাটে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে বড় ঢেউ ও ঝোড়ো বাতাসের আশঙ্কায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং অপ্রয়োজনে বাইরে না যেতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ঝড়ের কারণে তাইওয়ানের শেয়ারবাজারের নির্ধারিত কিছু কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

টাইফুন চাম্পির কারণে তাইওয়ানের বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। শুক্রবার দেশটিতে ২৬২টি অভ্যন্তরীণ এবং ৭১৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা প্রায় এক হাজারে পৌঁছেছে।

ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিমান চলাচলের সময়সূচিতে আরও পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে তাইওয়ানের উচ্চগতির রেল পরিষেবা চালু ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজধানী তাইপের গণপরিবহনও সীমিত পরিসরে চলাচল করছিল।

প্রবল বাতাস ও উত্তাল সমুদ্রের কারণে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। তাইওয়ানে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৬৩ জন আহত হয়েছেন।

এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২ হাজার ৬৩৯ জনকে সরিয়ে নেওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের বড় ঢেউ, আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস এবং ঝোড়ো বাতাসের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। জরুরি উদ্ধার ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রস্তুতি নিয়েছে।

তাইওয়ানের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি বাতাসের দমকা গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১৯১ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে। ঝড়টির বিস্তৃতির কারণে কেন্দ্র থেকে অনেক দূরের এলাকাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষ করে তাইওয়ানের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ উপকূলীয় এলাকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলার পাশাপাশি পাহাড়ি অঞ্চল, নদী ও সমুদ্রসৈকত থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে ঝড়টির প্রভাব জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ওকিনাওয়া অঞ্চলের দ্বীপগুলোতে ঝোড়ো বাতাস, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও বিমান চলাচলে বিঘ্নের খবর পাওয়া গেছে।

জাপানের ইশিগাকি দ্বীপে প্রায় দুই হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঝড়ের কারণে বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে এবং অন্তত একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, চাম্পি তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব দিক অতিক্রম করে পরবর্তী সময়ে জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় দ্বীপগুলোর দিকে অগ্রসর হতে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, তাইওয়ানের কাছ দিয়ে অগ্রসর হওয়ার পর টাইফুনটির গতিপথ পরিবর্তিত হতে পারে। ঝড়টি চীনের উপকূলের দিকে মোড় নিয়ে পরে জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও তীব্রতা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এবং কোন অঞ্চলে কতটা প্রভাব পড়বে, তা নিশ্চিতভাবে নির্ধারণের জন্য পরবর্তী আবহাওয়ার পূর্বাভাস গুরুত্বপূর্ণ।

ChannelNRB Footer