ইতালির উপকূলীয় এলাকায় পর পর ১২টি ভূমিকম্প আঘাত হানার পর জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দেশটির সিসিলি দ্বীপের উত্তর-পশ্চিম উপকূলের কাছে টাইরেনিয়ান সাগরে এসব ভূকম্পন অনুভূত হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্ভাব্য সুনামির ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়। পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় স্কুল ও সরকারি ভবন থেকে লোকজনকে সতর্কতামূলকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ধারাবাহিক ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল ৫.০। অন্য ১১টি কম্পনের মাত্রাও ৩.০-এর বেশি ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভূমিকম্পের পর স্থানীয় প্রশাসন জরুরি প্রস্তুতি জোরদার করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪ মিনিটে প্রথম ভূমিকম্পটি রেকর্ড করা হয়। এর মাত্রা ছিল ৩.৩। এরপর একই অঞ্চলে একের পর এক ভূকম্পন অনুভূত হয়।
সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পনটি সিসিলির উত্তর-পশ্চিমে এওলিয়ান দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি সমুদ্র এলাকায় আঘাত হানে। এর মাত্রা ছিল ৫.০।
ধারাবাহিক এসব ভূমিকম্পের কারণে সিসিলি অঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় সম্ভাব্য সুনামি ও সমুদ্রের পানির অস্বাভাবিক পরিবর্তন নিয়ে সতর্কতা জোরদার করা হয়।
তবে প্রাথমিক প্রতিবেদনে বড় ধরনের ভবনধস বা ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য সুনামির ঝুঁকি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় কমলা পর্যায়ের সতর্কতা জারি করা হয় বলে সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিসিলির পালেরমো ও মেসিনা এলাকায় কয়েকটি স্কুল থেকে সতর্কতামূলকভাবে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া ত্রাপানির একটি আদালত ভবনও খালি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুত থাকে।
তবে সুনামির সতর্কতা জারি হওয়া মানেই যে বড় ঢেউ আঘাত হানবে, তা নয়। সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে কর্তৃপক্ষ আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।
সিসিলির নাগরিক সুরক্ষা সংস্থার প্রধান সালভো কোচিনা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি সতর্কতা ও প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষকে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করতে এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর নজর রাখতে বলা হয়েছে।
সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় অবস্থানকারীদের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সুনামির সতর্কতা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প হলে কখনো কখনো আকস্মিকভাবে সমুদ্রের পানির উচ্চতা ও স্রোতের পরিবর্তন ঘটতে পারে।
ইতালির সিসিলি দ্বীপের গুরুত্বপূর্ণ শহর মেসিনা ও পালেরমোতে ভূমিকম্পের পর উদ্বেগ তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেয়। তবে ভূমিকম্পের কারণে কতজন আহত হয়েছেন, কতটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিংবা কোনো প্রাণহানি ঘটেছে কি না—এসব বিষয়ে প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
ইতালি ইউরোপের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। দেশটির অবস্থান আফ্রিকান ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের পারস্পরিক ক্রিয়াশীল অঞ্চলের কাছাকাছি হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে।
দেশটির দক্ষিণাঞ্চল, সিসিলি ও আশপাশের সমুদ্রাঞ্চলে ভূতাত্ত্বিক সক্রিয়তা রয়েছে। তবে একই এলাকায় একাধিক ভূমিকম্প ঘটলেই আরও বড় ভূমিকম্প হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের মাত্রা, গভীরতা, অবস্থান এবং পরবর্তী কম্পনের ধরন বিশ্লেষণ করে ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে হয়। একই সঙ্গে সমুদ্রের নিচে ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে সুনামির সম্ভাবনাও আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
পর পর ১২টি ভূমিকম্পের ঘটনায় ইতালির সিসিলি অঞ্চলে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য সুনামির ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো প্রস্তুত রয়েছে।
বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ, উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলা এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে সর্বশেষ তথ্য জানার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন:







