News Ticker
221.png

প্যারিসে বিক্ষোভের আশঙ্কায় লুভরসহ ৫ জাদুঘর বন্ধ ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:২৮

শেয়ার

শেয়ার

প্যারিসে বিক্ষোভের আশঙ্কায় লুভরসহ ৫ জাদুঘর বন্ধ ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে নতুন করে বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় লুভরসহ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আগামী শনিবার (২৪ অক্টোবর) এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মীদের সুরক্ষা দেওয়া এবং মূল্যবান শিল্পকর্ম রক্ষার উদ্দেশ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।

বন্ধের তালিকায় রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত জাদুঘর লুভর, ওরসে জাদুঘর, পিকাসো জাদুঘর, মিউজে দ্য লরঁজেরি এবং গ্রঁ পালে। গ্রঁ পালে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শনী ও শিল্পকলা আয়োজনের কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। 

ফরাসি কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতে সংকোচন এবং অন্যান্য সামাজিক দাবিতে শনিবারের বিক্ষোভ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে। গত সপ্তাহের বিক্ষোভে ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সেই অভিজ্ঞতার পর এবার আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ফ্রান্সের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভের সময় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, কর্মীদের সুরক্ষা এবং শিল্পকর্মের সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটকেরা প্যারিসের জাদুঘরগুলো দেখতে আসেন। বিশেষ করে লুভরে রয়েছে লিওনার্দো দা ভিঞ্চির বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘মোনালিসা’সহ অসংখ্য ঐতিহাসিক ও মূল্যবান শিল্পকর্ম। এমন একটি স্থানে বিক্ষোভের সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে দর্শনার্থীদের পাশাপাশি শিল্পকর্মের নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এ কারণে বিক্ষোভের দিন প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই ঝুঁকি কমিয়ে আনা।

গত ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষাসংক্রান্ত দাবিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। প্যারিসসহ কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভের একপর্যায়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে দোকানপাটের জানালা ভাঙচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষও হয়।

এরপর নতুন করে বিক্ষোভের কর্মসূচি সামনে আসায় প্রশাসন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, শনিবারের কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নিলে পরিস্থিতি আবারও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

তবে সব বিক্ষোভকারী সহিংসতায় জড়িত নন। সামাজিক ও অর্থনৈতিক দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচির পাশাপাশি সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ঠেকানোই এখন প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

বিক্ষোভ ঘিরে ফ্রান্সজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি রয়েছে।

নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বিশেষ পুলিশ ইউনিট, সামরিক সহায়তা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী জলকামান ও সাঁজোয়া যান ব্যবহারের ব্যবস্থাও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্যারিস ছাড়াও ফ্রান্সের অন্যান্য শহরে বিক্ষোভ হতে পারে। কয়েকটি শহরে নির্দিষ্ট কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ও সহিংসতার ঝুঁকি—দুই বিষয় বিবেচনায় রেখে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে প্যারিসের শিল্পকলা আয়োজনেও। আন্তর্জাতিক সমসাময়িক শিল্পকলার গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন আর্ট বাসেল প্যারিস নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আয়োজকেরা।

গ্রঁ পালে আয়োজিত এই শিল্পমেলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২১১টি গ্যালারি অংশ নিয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মেলাটি রোববার পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও নিরাপত্তার উদ্বেগে শুক্রবার সন্ধ্যায় কার্যক্রম শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, দর্শনার্থী, প্রদর্শক, কর্মী, অংশীদার এবং শিল্পকর্মের নিরাপত্তা তাঁদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ কারণে সপ্তাহান্তের কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে।

এ সিদ্ধান্তে দর্শনার্থীদের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী গ্যালারিগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে।

ChannelNRB Footer