ফিলিপাইনে প্রশিক্ষণ চলাকালে বিমানবাহিনীর দুটি প্রশিক্ষণ বিমানের সংঘর্ষে চার পাইলট নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দেশটির বাতাঙ্গাস প্রদেশের লিপা সিটির ফার্নান্দো বিমানঘাঁটিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ফিলিপাইন বিমানবাহিনী চার পাইলটের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সংশ্লিষ্ট মডেলের সব প্রশিক্ষণ বিমান সাময়িকভাবে উড্ডয়ন থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
ফিলিপাইন বিমানবাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় জড়িত বিমান দুটি ছিল এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট SF-260 মডেলের প্রশিক্ষণ বিমান। শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫১ মিনিটে প্রশিক্ষণ চলাকালে বিমান দুটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। উভয় বিমানই বিমানঘাঁটির সীমানার ভেতরে বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় চার পাইলট ছাড়া মাটিতে থাকা অন্য কারও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ভিডিওতে দুটি বিমানের আকাশে সংঘর্ষের দৃশ্য দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এপি-র প্রতিবেদনে ফিলিপাইনের কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, বিমান দুটি নিচু উচ্চতায় উড্ডয়নের সময় পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এরপর সেগুলো বিমানঘাঁটির ভেতরে বিধ্বস্ত হয়।
তবে কী কারণে বিমান দুটি কাছাকাছি চলে এসেছিল, পাইলটদের মধ্যে যোগাযোগে কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না—এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ফিলিপাইন বিমানবাহিনী ঘটনাটিকে একটি বিমান দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালাচ্ছে।
দুর্ঘটনায় নিহত চার পাইলটের নাম ও বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশের বিষয়ে বিমানবাহিনী প্রাথমিক বিবৃতিতে বিস্তারিত জানায়নি। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
একই সঙ্গে শোকাহত পরিবারগুলোর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার জন্য সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিমানবাহিনী।
দুর্ঘটনার পর ফিলিপাইন বিমানবাহিনী তাদের বহরে থাকা সব SF-260 প্রশিক্ষণ বিমান সাময়িকভাবে গ্রাউন্ডেড করেছে। অর্থাৎ তদন্ত শেষ হওয়া এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা না করা পর্যন্ত এসব বিমানকে নিয়মিত উড্ডয়ন কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হবে।
তবে বিমানবাহিনীর বহরে বর্তমানে এ মডেলের কতটি বিমান রয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
SF-260 ইতালিতে তৈরি হালকা এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট বিমান। এটি সামরিক পাইলটদের প্রাথমিক ও উন্নত উড্ডয়ন প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়। বিমানটির প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে উড্ডয়ন দক্ষতা, নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিমান পরিচালনার অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত থাকে।
ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে সীমিত আর্থিক সম্পদের মধ্যে বিমান, নৌ ও স্থলবাহিনীর আধুনিকায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটিকে অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র বিদ্রোহ মোকাবিলা এবং দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক বিরোধের মতো নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ সামলাতে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণ বিমানের দুর্ঘটনা শুধু প্রাণহানির ঘটনাই নয়, সামরিক প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতা এবং বিমানবাহিনীর কার্যক্রমের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে সর্বশেষ দুর্ঘটনার তদন্ত শেষ হওয়ার আগে বিমানটির রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনা বা প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় কোনো নির্দিষ্ট ত্রুটি ছিল বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
আরও পড়ুন:







