জর্ডানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কারাক গভর্নরেটের একটি গির্জায় বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪০ জন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) গির্জাটিতে একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান চলাকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে। মর্মান্তিক এ ঘটনার পর দেশজুড়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে জর্ডান সরকার।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাটি কারাক গভর্নরেটের হামুদ গ্রামের একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গির্জাটিতে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান চলার সময় বন্দুকধারীরা সেখানে উপস্থিত লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হামলার সময় গির্জায় বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আকস্মিক গুলিবর্ষণে সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন।
জর্ডানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে একাধিক সশস্ত্র ব্যক্তিকে গির্জার বাইরে থেকে গুলি চালাতে দেখা গেছে। পরে তাঁদের গির্জার প্রবেশপথের দিকে যেতে দেখা যায়।
হামলার পরপরই ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল।
হামলায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শুক্রবার থেকেই তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেন জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী জাফর হাসান।
জর্ডানের কর্তৃপক্ষ হামলাটিকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাজেন আল-ফারায়েহ বলেছেন, হামলার পেছনে উগ্রবাদী শক্তি জড়িত বলে মনে করা হচ্ছে। তবে হামলাকারীদের সঙ্গে কোনো পরিচিত সশস্ত্র সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
হামলার দায়ও এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন স্বীকার করেনি। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে এবং তাঁদের সম্ভাব্য সহযোগীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।
জর্ডানে খ্রিষ্টান সম্প্রদায় মোট জনসংখ্যার সংখ্যালঘু অংশ। দেশটিতে মুসলিম ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি বসবাস করে আসছে। কারাক অঞ্চলও ঐতিহাসিকভাবে উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাসের জন্য পরিচিত।
গির্জায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানের সময় এমন হামলার ঘটনা দেশটির ধর্মীয় সম্প্রীতি ও জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এদিকে, নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আহতদের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন:







