News Ticker
221.png

৭.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ মালবাহী ট্রেন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:০৩

শেয়ার

শেয়ার

৭.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ মালবাহী ট্রেন
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের দীর্ঘতম মালবাহী ট্রেন পরিচালনার নতুন রেকর্ড গড়ার দাবি করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রীয় রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ট্রান্সনেট ফ্রেইট রেল (Transnet Freight Rail)। ৬৯৬টি ওয়াগন নিয়ে প্রায় ৭.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ট্রেন পরিচালনা করে আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৬ সালের ১৮ অক্টোবর দক্ষিণ আফ্রিকার সিশেন-সালডানহা রেল করিডরে এই বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করা হয়।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ট্রেনটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ হাজার ৬০০ মিটার। এর মাধ্যমে ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিএইচপি আয়রন ওরের প্রতিষ্ঠিত ৭.৩৫৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ট্রেন পরিচালনার রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার দাবি করা হয়েছে। 

দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রান্সনেট ফ্রেইট রেলের পরিচালিত এই ট্রেনটি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ লৌহ আকরিক পরিবহন রেলপথে চলাচল করে। রেলপথটি পশ্চিম কেপ প্রদেশের সালডানহা বন্দরকে নর্দার্ন কেপ অঞ্চলের সিশেনের খনি এলাকার সঙ্গে যুক্ত করেছে।

প্রায় ৮৬১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেল করিডর দিয়ে মূলত লৌহ আকরিক পরিবহন করা হয়। রেকর্ড গড়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত ট্রেনটিতে ছিল ৬৯৬টি খালি মালবাহী ওয়াগন। ট্রেনটির দৈর্ঘ্য, বিপুলসংখ্যক ওয়াগন এবং পুরো ব্যবস্থাকে সমন্বিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করার প্রযুক্তি এই কার্যক্রমকে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য করে তুলেছে।

ট্রান্সনেটের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেনটি পরিচালনায় একাধিক বৈদ্যুতিক ও ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ ব্যবহার করা হয়। এগুলো ট্রেনের বিভিন্ন অংশে স্থাপন করা হয়েছিল, যাতে এত দীর্ঘ ট্রেনকে একক ইউনিট হিসেবে পরিচালনা করা যায়।

এত দীর্ঘ একটি ট্রেন চালানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ট্রেনের বিভিন্ন অংশের মধ্যে টান, চাপ এবং ব্রেকিংয়ের ভারসাম্য বজায় রাখা। সামনের দিকে থাকা লোকোমোটিভ দিয়ে পুরো ট্রেন পরিচালনা করলে পেছনের অংশে অতিরিক্ত টান বা চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।

এই সমস্যা মোকাবিলায় ট্রান্সনেট ব্যবহার করেছে রেডিও ডিস্ট্রিবিউটেড পাওয়ার (Radio Distributed Power—RDP) প্রযুক্তি। এ ব্যবস্থায় ট্রেনের বিভিন্ন স্থানে থাকা লোকোমোটিভগুলো ইলেকট্রনিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমন্বিতভাবে কাজ করে।

প্রযুক্তিটির ফলে ট্রেনের দৈর্ঘ্যজুড়ে টানার শক্তি ও ব্রেকিংয়ের বল বণ্টন করা সম্ভব হয়। এতে ওয়াগনগুলোর সংযোগস্থলে অতিরিক্ত চাপ কমানো এবং দীর্ঘ ট্রেনের গতি ও নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়।

ট্রেনটি পরিচালনার আগে রেল কর্তৃপক্ষকে রুটের সক্ষমতা, লোকোমোটিভের অবস্থান, ট্রেনের গতিবিদ্যা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা করতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দল ট্রেনের চলাচল পর্যবেক্ষণ করেছে এবং সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ পরিচালনব্যবস্থা আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে বিশ্বের দীর্ঘতম মালবাহী ট্রেন পরিচালনার রেকর্ড ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিএইচপি আয়রন ওরের দখলে। ২০০১ সালের ২১ জুন প্রতিষ্ঠানটি ৬৮২টি আকরিকবাহী ওয়াগন এবং আটটি ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ নিয়ে ৭.৩৫৩ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ট্রেন পরিচালনা করে।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার ওই ট্রেনটির মোট ওজন ছিল প্রায় ৯৯ হাজার ৭৩২ মেট্রিক টন।

ChannelNRB Footer