সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) উপকূলীয় এলাকায় একটি তেলবাহী ট্যাংকার থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তিন অঞ্চলের সৈকত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে দূষণ নিয়ন্ত্রণ, তেল অপসারণ ও পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ করছেন বিশেষজ্ঞ দল।
গত ২৩ অক্টোবর দেশটির জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানায়, উম্ম আল কুয়াইনের উপকূলীয় এলাকায় তেল ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় শনাক্ত হয়েছে। এরপর ওই অঞ্চলের সব সৈকত ও উপকূলীয় এলাকা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী শারজাহর আল হামরিয়া সৈকত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাস আল খাইমাহ কর্তৃপক্ষও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব সৈকত বন্ধের ঘোষণা দেয়।
তবে আজমানসহ আশপাশের কয়েকটি অঞ্চলে জ্বালানির মতো তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেলেও সেখানে সব সৈকত বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উপকূল থেকে দূরে একটি ট্যাংকার থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পরপরই দূষণ নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করা হয়। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে দূষিত এলাকা চিহ্নিত করা, তেল ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম চলছে।
তবে কোন ট্যাংকার থেকে তেল ছড়িয়েছে এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং সামুদ্রিক পরিবেশের ওপর এর প্রভাব নিরূপণে তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
উম্ম আল কুয়াইন, শারজাহ ও আজমানের বাসিন্দারা বাতাসে জ্বালানির মতো অস্বাভাবিক গন্ধ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব গন্ধের কারণে জনস্বাস্থ্যের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই। একই সঙ্গে উপকূলে ভেসে আসা তেলের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতে জনগণকে সতর্ক করা হয়েছে।
দূষিত সামুদ্রিক এলাকায় মাছ ধরা ও অন্যান্য কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে জেলে এবং সমুদ্রে চলাচলকারী ব্যক্তিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও নিরাপত্তা নির্দেশনা ছাড়া এসব এলাকায় প্রবেশ না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশগত মূল্যায়ন শেষ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নির্ধারণ করা হবে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সৈকতগুলো পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সমুদ্রের পানিতে তেল ছড়িয়ে পড়লে সামুদ্রিক প্রাণী, উপকূলীয় উদ্ভিদ, ম্যানগ্রোভ বন ও অন্যান্য সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তেল উপকূলে পৌঁছালে তা অপসারণ করা কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন:







