সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর আবারও ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল। রোববার (২৫ অক্টোবর) থেকে বিমানবন্দরের দুটি টার্মিনালে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে নতুন করে হামলার আশঙ্কা থাকায় বিমান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার থেকে টার্মিনাল-১ দিয়ে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট এবং টার্মিনাল-২ দিয়ে সৌদি আরবের জাতীয় বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল করবে।
যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সময়সূচি ও বুকিংয়ের অবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
তবে বিমানবন্দরের সব টার্মিনাল এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। ফলে আগের মতো স্বাভাবিক যাত্রী চলাচল ফিরতে আরও সময় লাগতে পারে।
গত ১০ অক্টোবর হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পর কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ওই হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
ঘটনার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পরীক্ষা করে কর্তৃপক্ষ। প্রায় দুই সপ্তাহ পর সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিমানবন্দর চালুর দিনই রিয়াদকে লক্ষ্য করে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে।
এদিকে, হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বিমানবন্দরটিকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করে বিমান সংস্থা, কর্মী ও যাত্রীদের সেখানে যাতায়াত না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এবং ফ্লাইট পরিচালনার ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
বিমানবন্দর আংশিকভাবে খুললেও অনেক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা এখনো তাদের ফ্লাইট স্থগিত বা বাতিল রেখেছে। ফলে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কা আঞ্চলিক বিমান চলাচলে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিমান সংস্থাগুলো নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিমানবন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা অর্থনীতি, বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক যাতায়াতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়াকে স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিমান সংস্থাগুলোর নিয়মিত ফ্লাইট চালু না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের ভ্রমণে অনিশ্চয়তা থাকতে পারে।
আরও পড়ুন:







