যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে মার্কিন সামরিক হামলার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই ইরানে হামলা চালাতে পারে। অন্যদিকে, সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে তেহরান। তবে সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নিশ্চিত নয়।
রোববার, ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন সামরিক কমান্ড সেন্টকম (CENTCOM) ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর জন্য একাধিক পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য হোয়াইট হাউসের অনুমোদন প্রয়োজন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইরানে সম্ভাব্য হামলার বিষয়টি উড়িয়ে দেননি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে রোববারই সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও খোলা রেখেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার অন্যতম কারণ হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে দুই দেশের বিরোধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপরও প্রভাব ফেলছে।
ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার কথা জানিয়েছেন। এর বিনিময়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম তাসনিম এই প্রস্তাবের বিষয়ে প্রকাশিত কিছু খবর প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ইরানের কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে তেহরানও পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেছেন, ভবিষ্যতে কোনো হামলা হলে দেশটির প্রতিক্রিয়া আগের তুলনায় আরও আক্রমণাত্মক হতে পারে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক নৌপথও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
আরও পড়ুন:







