যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে অস্ত্র চালানো ও দেশের প্রতিরক্ষায় অংশ নিতে ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ নিবন্ধন করেছেন বলে দাবি করেছে ইরান সরকার। দেশটির ‘জানফাদা’ (Janfada) নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী কর্মসূচির আওতায় এই নিবন্ধন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। খবর আল জাজিরার।
রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাসিজ বাহিনী দেশজুড়ে সাধারণ নাগরিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের গুরুত্বপূর্ণ চত্বর ও জনসমাগমস্থলে প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। সেখানে স্বেচ্ছাসেবীদের অস্ত্র ব্যবহারের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ ও প্রতিরক্ষাসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
‘জানফাদা’ শব্দটির অর্থ আত্মত্যাগে প্রস্তুত ব্যক্তি। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গত মার্চে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এর উদ্দেশ্য হিসেবে নাগরিকদের সংগঠিত করা, সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা এবং দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষায় স্বেচ্ছাসেবীদের যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
কর্মসূচিটির আওতায় শুধু সামরিক প্রশিক্ষণ নয়, উদ্ধারকাজ, সামাজিক সেবা, গণমাধ্যমে সহায়তা ও আর্থিক সহযোগিতার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রেও অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিবন্ধনকারীদের একটি অংশ সামরিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক কার্যক্রমে যুক্ত হতে আগ্রহী।
ইরানের কর্তৃপক্ষ রাজধানী তেহরানের অন্তত ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ চত্বরে প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম সরবরাহের কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। এ ছাড়া দেশটির ৩১টি প্রদেশের রাজধানীতে এক থেকে তিনটি করে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার, গুলি ভরা, নিশানা নির্ধারণ এবং অস্ত্র পরিচালনার প্রাথমিক বিষয়গুলো শেখানো হচ্ছে। কর্মসূচিতে নারী ও পুরুষ উভয়কেই অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরান সরকারের দাবি, কর্মসূচিটির ওয়েবসাইটে ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ নিবন্ধন করেছেন। তবে এ সংখ্যার সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে বিদেশভিত্তিক কয়েকজন পর্যবেক্ষক ওয়েবসাইটটির প্রযুক্তিগত তথ্য পরীক্ষা করে চার মিলিয়নেরও কম নিবন্ধনের ইঙ্গিত পেয়েছিলেন। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক না থাকায় একই ব্যক্তির একাধিকবার নিবন্ধনের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইরান সরকার তাদের ঘোষিত সংখ্যার পক্ষে বিস্তারিত যাচাইযোগ্য তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন হামলা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের আশঙ্কা ইরানের এই উদ্যোগের অন্যতম প্রেক্ষাপট। দেশটির কর্তৃপক্ষ কর্মসূচিটিকে জাতীয় প্রতিরক্ষা ও জনসম্পৃক্ততার উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরছে।
অন্যদিকে, কিছু পর্যবেক্ষক মনে করছেন, এ ধরনের ব্যাপক জনসমাবেশ ও সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার নিজেদের সমর্থকদের সংগঠিত করার পাশাপাশি শক্তির বার্তাও দিতে চাইছে। তবে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের প্রকৃত সংখ্যা এবং তাদের কতজন সামরিক দায়িত্বে যুক্ত হবেন, তা স্পষ্ট নয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মসূচিতে তরুণদের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের নিবন্ধনের বিষয়টিও সামনে এসেছে। ইরানের শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এ নিয়ে শিশুদের নিরাপত্তা ও সশস্ত্র কার্যক্রমে অপ্রাপ্তবয়স্কদের অংশগ্রহণের ঝুঁকি সম্পর্কে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন:







