News Ticker
221.png

আবারও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হলেন কট্টর ফিলিস্তিনপন্থি লুলা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:১৮

আপডেট: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:২৭

শেয়ার

শেয়ার

আবারও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হলেন কট্টর ফিলিস্তিনপন্থি লুলা
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন বামপন্থি নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। ডানপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করে চতুর্থবারের মতো দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ব্রাজিলে বামপন্থি নেতৃত্ব অব্যাহত থাকছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন এবং ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনার কারণে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আলোচিত লুলার অবস্থানও নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

ব্রাজিলের সরকারি সংবাদমাধ্যম এজেন্সিয়া ব্রাসিল ও দেশটির সিনেটের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার ভোটে লুলা বৈধ ভোটের প্রায় ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ পেয়েছেন। অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন প্রায় ৪৮ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট। দেশটির নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ লুলাকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে। ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি তাঁর নতুন মেয়াদ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

নির্বাচনের প্রথম দফায় লুলা তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোর চেয়ে পিছিয়ে ছিলেন। এতে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় দফায় সমর্থকদের সংগঠিত করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং বিভিন্ন শহরে সমর্থকদের সমাবেশের মধ্য দিয়ে ঘুরে দাঁড়ান তিনি।

ফ্লাভিও বলসোনারো দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে। এবারের নির্বাচনে তাঁর প্রচারে ডানপন্থি রাজনীতি, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক নীতির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। বিপরীতে লুলা সামাজিক সুরক্ষা, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষার প্রতিশ্রুতি সামনে আনেন।

ব্রাজিলের নির্বাচনী ইতিহাসে প্রথম দফায় পিছিয়ে থাকার পর দ্বিতীয় দফায় জয়ী হওয়ার ঘটনা বিরল। ফলে লুলার এই জয়কে দেশটির রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিষয়ে প্রকাশ্য অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লুলা একজন উল্লেখযোগ্য ফিলিস্তিনপন্থি নেতা হিসেবে পরিচিত।

গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং মানবিক সংকট নিয়ে তিনি একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনাও করেছেন। তাঁর বক্তব্যে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

২০২৪ সালে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে লুলার মন্তব্য ব্রাজিল ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছিল। ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সঙ্গে নাৎসি জার্মানির অপরাধের তুলনা করে দেওয়া তাঁর বক্তব্যের পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে ওঠে। ইসরায়েল তাঁর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

লুলার অবস্থানের সমর্থকেরা মনে করেন, ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা জরুরি। অন্যদিকে তাঁর সমালোচকেরা বলেন, এ ধরনের বক্তব্য কূটনৈতিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে ফিলিস্তিন ইস্যুতে তাঁর অবস্থান লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে তাঁকে একটি স্বতন্ত্র আন্তর্জাতিক পরিচিতি দিয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, জননিরাপত্তা ও সামাজিক বৈষম্য মোকাবিলা লুলার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকবে।

নির্বাচনী প্রচারে তিনি নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা এবং সরকারি ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

এ ছাড়া ব্রাজিলের কংগ্রেসে রক্ষণশীল শক্তির প্রভাব থাকায় আইন প্রণয়ন ও সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজন হতে পারে।

১৯৪৫ সালের ২৭ অক্টোবর জন্ম নেওয়া লুলা পেশাগত জীবনে একজন ধাতুশ্রমিক ছিলেন। পরে শ্রমিক আন্দোলনের নেতা হিসেবে পরিচিতি পান এবং ১৯৮০ সালে ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিটি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

২০০২ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথমবার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হন তিনি। ২০০৬ সালে পুনর্নির্বাচিত হয়ে ২০১০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২২ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০২৩ সালে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরেন। এবার ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে চতুর্থ মেয়াদ নিশ্চিত করলেন তিনি।

ব্রাজিলের সরকারি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এবারের জয় তাঁকে দেশটির সরাসরি নির্বাচিত প্রেসিডেন্টদের মধ্যে একটি অনন্য অবস্থানে নিয়ে গেছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে নতুন মেয়াদ শুরু হলে অর্থনীতি, সামাজিক নীতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে বিশ্ববাসীর।

ChannelNRB Footer